ঢাকা ০৮:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শেষ মুহূর্তে ভোটের মাঠে সক্রিয় আ.লীগ

সমকাল
  • আপডেট: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 9

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে শেষ মুহুর্তে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নেমেছেন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের পক্ষে। এতে পাল্টে যাচ্ছে ভোটের হিসাব নিকাশ।

অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জামায়াতের অভিযোগ বিএনপির প্রার্থী নানাভাবে তাদের সমর্থকদের হুমকি ধমকি দিচ্ছেন এমনকি হামলার ঘটনাও ঘটছে। তবে বিএনপির প্রার্থী দাবি তার ব্যাপক জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অভিযোগ করছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টা পর্যন্ত যদিও নির্বাচনী প্রচারে সময় ছিল তবুও সবাই শেষ প্রচার চালিয়েছেন সোমবার রাত পর্যন্ত। সোমবার বিকেল ৪টায় আড়াইহাজার সদরের পায়রা চত্ত্বরে আসে এ আসনের বিএনপির তিনবারের সাবেক এমপি ও এবারের নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান খান আঙ্গুরের বিশাল মিছিল। তার মার্কা কলস। মিছিলের অনেকের হাতেই দেখা যায় কলস মার্কাটি বাধা রয়েছে একটি লাঠির আগায়। মিছিলের পেছনে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের প্রহরা।

মিছিল দেখে অনেকেই বলাবলি করছিলেন, কৌশলে বিপুল সংখ্যক লাঠি রাখা হয়েছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানালেন, গত রোববার আড়াইহাজারের দুপ্তারা ইউনিয়নের সত্যভান্দি এলাকায় আঙ্গুরের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তার বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন। হামলার জন্য আঙ্গুর তার প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থীর দিকে অভিযোগের তীর ছুড়েন। ওই ঘটনার পর তাই সতর্কতা হিসেবে শেষ নির্বাচনী মিছিলে লাঠি রেখেছেন তার সমর্থকরা।

আড়াইহাজারের পায়রা চত্ত্বর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত এলাকায়ও সব পক্ষ ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে। শুরুতে প্রচারে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত আতাউর রহমান খান আঙ্গুর বেশ এগিয়ে থাকলেও শেষ মুহুর্তে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী-সমর্থকরা মাঠে নামার পাশাপাশি আঙ্গুর বলয়ের কিছু লোকজনও বিএনপির প্রার্থীর দিকে চলে আসায় নজরুল ইসলাম আজাদ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে জানালেন মেঘনা পারের দুর্ঘম অঞ্চল খাগকান্দা থেকে আড়াইহাজার সদরে কলা বিক্রি করতে আসা কৃষক এমরান আলী।

তিনি বললেন, তাদের এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা ‘প্রফেসর সাব’ নজরুল ইসলাম আজাদের পক্ষে কাজ করছেন। ওই নেতার নাম তিনি জানাননি।

সব অঞ্চলেই বিএনপির পক্ষে আ.লীগ সমর্থকরা
নির্বাচন ঘিরে ভোটের মাঠে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ আর নানা হিসাব-নিকাশ। নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভোটের মাঠে না থাকা আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক কর্মী ও সমর্থক। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকার জন্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আওয়ামী লীগ। দলটির শীর্ষ নেতারাও দেশছাড়া। অনেকে রয়েছেন কারাবন্দি। এ অবস্থায় মাঠে থাকা আওয়ামী সমর্থক ভোটাররা নিজেদের নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ এবং স্থানীয় বাস্তবতা মিলিয়ে ও টিকে থাকার জন্য আস্থার জায়গা খুঁজে ভোট দেওয়ার চিন্তা করছেন।

গোপলদী পৌরসভার বিশাল এলাকায় কাজ করছেন পৌর মেয়র এম এ হালিম সিকদার ও উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল লতিফ মোল্লা নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও এর অংসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের উপস্থিতিতে ভোটের হিসাব নিকাশে বেশ প্রভাব পড়েছে। গোপালদী এলাকার হোসেন দেলোয়ার বলেন, গোপালদী পৌরসভা আওয়ামী লীগের বিশাল একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। নজরুল ইসলাম আজাদ এই এলাকার লোকদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সাথে নিয়ে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করবেন। তার দ্বারা কোন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী সমর্থক কোন ধরনের সমস্যায় পড়বে না। যেহেতু নৌকা মার্কা নেই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী সমর্থকরা তাঁর প্রতিশ্রুতির কারণে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন।

এ ব্যাপারে পৌর মেয়র হালিম সিকদারের ঘনিষ্টরা জানান, গোপালদী পৌর মেয়র হওয়ার পর থেকে তাকে কেউ পরাজিত করতে পারেনি। তার নিজস্ব একটি বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। তিনি এলাকায় অবস্থান করে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদকে সমর্থন জানিয়েছেন।

একইভাবে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়েছেন আড়াইহাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান, মাহমুদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমানউল্যাহ আমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মেহের আলী মোল্লা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, যুবলীগ সভাপতি আহাম্মেদুল কবির উজ্জ্বল, ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের অঞ্চলভিত্তিক অসংখ্য নেতাকর্মী।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মেহের আলী মোল্লা জানান, এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী না হলে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এগিয়ে যাবে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোক হিসেবে এটা তিনি মানতে পারবেন না। বিএনপি প্রার্থী দলমত সবাইকে সাথে নিয়ে আড়াইহাজারকে এগিয়ে নিতে চান। জনস্বার্থ বিবেচনা করে আজাদকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে।

খাগকান্দা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত দাবী করে ওই ইউয়িনের বাসিন্দা রহমান মিয়া বলেন, যেকোন নির্বাচেনে প্রয়াত এমপি সামছুল হকের পরিবারের ওই ইউনিয়নের বেশ প্রভাব রয়েছে। ওই এলাকার বাসিন্দা ও ওই পরিবারের একজন সদস্য মুড়াপাড়া ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যাপক মফিজুল হক ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বিএনপির প্রার্থীর সমর্থনে কাজ করছেন। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলামও মাঠে নেমে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন। এর ফলে ওই ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থীর একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে।

ভোটের মাঠ সম্পর্কে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক বীর মুক্তিযোদ্ধ রুহুল আমিন বাবুল বলেন, আওয়ামী কর্মী-সমর্থকদের অংশগ্রহণ বিশ্লেষণে মনে হচ্ছে, তাদের একটি বড় অংশই এবার বিএনপির দিকে ঝুঁকছে। এর পেছনে নানা কারণের মধ্যে এবারের ভোটের লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী সমর্থকদের নিরাপত্তা ও মুক্তিযুদ্ধ ইস্যুটি নতুন করে সামনে এসেছে। এর পেছনে নির্বাচনী কৌশল জড়িয়ে রয়েছে।

তবে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা শুধু বিএনপিকে সমর্থন দেবে- এ বিষয়টি মানতে নারাজ প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। এ আসনের জামায়াতের ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক ইলিয়াস মোল্লা বলেন, আওয়ামী লীগের ভোট দাঁড়িপাল্লায় যাবে। তবে আমরা একটা ফ্রি ফেয়ার ইলেকশন হবে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু প্রতিপক্ষ বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে ভোট কেন্দ্র দখল করবে, সিল মারবে, এজেন্ট থাকতে দেবে না এমন হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা সন্ত্রাস তৈরি করে নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে পারে।

একই ধরনের কথা বলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আঙ্গুর। তিনি বলেন,  বিএনপির প্রার্থীর পক্ষ থেকে আমার লোকজনকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এরপরও আমি নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারলে আমিই জয়ী হব।

নিজের পক্ষে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রচার সম্পর্কে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, আড়াইহাজার মূলত বিএনপির ঘাটি। এরপরও নির্বাচনে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি যাতে জয়ী হতে না পারে সেজন্য আওয়ামী লীগের কেউ কেউ স্বেচ্ছায় আমর পক্ষে নেমেছেন। প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের উপর হামলা, নির্বাচনী কাজে বাধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট। আমার ব্যাপক জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষরা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এছাড়াও এই আসনে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির আবু হানিফ হৃদয়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মুফতী মো. হাবিবুল্লাহ, গণ অধিকার পরিষদের কামরুল মিয়া, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির হাফিজুল ইসলাম নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।

সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও ইউএনও আসাদুর রহমান জানান, আড়াইহাজারে মোট ভোট কেন্দ্র ১১৮টি। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৪৪টি, ঝুঁকিপূর্ণ ৭৪টি। তিনি বলেন, কোনো প্রার্থী যদি হুমকি ধামকির ব্যাপারে কোনো অভিযোগ করেন তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।

শেয়ার করুন

শেষ মুহূর্তে ভোটের মাঠে সক্রিয় আ.লীগ

আপডেট: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে শেষ মুহুর্তে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নেমেছেন বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের পক্ষে। এতে পাল্টে যাচ্ছে ভোটের হিসাব নিকাশ।

অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জামায়াতের অভিযোগ বিএনপির প্রার্থী নানাভাবে তাদের সমর্থকদের হুমকি ধমকি দিচ্ছেন এমনকি হামলার ঘটনাও ঘটছে। তবে বিএনপির প্রার্থী দাবি তার ব্যাপক জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অভিযোগ করছেন।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৭টা পর্যন্ত যদিও নির্বাচনী প্রচারে সময় ছিল তবুও সবাই শেষ প্রচার চালিয়েছেন সোমবার রাত পর্যন্ত। সোমবার বিকেল ৪টায় আড়াইহাজার সদরের পায়রা চত্ত্বরে আসে এ আসনের বিএনপির তিনবারের সাবেক এমপি ও এবারের নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান খান আঙ্গুরের বিশাল মিছিল। তার মার্কা কলস। মিছিলের অনেকের হাতেই দেখা যায় কলস মার্কাটি বাধা রয়েছে একটি লাঠির আগায়। মিছিলের পেছনে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের প্রহরা।

মিছিল দেখে অনেকেই বলাবলি করছিলেন, কৌশলে বিপুল সংখ্যক লাঠি রাখা হয়েছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানালেন, গত রোববার আড়াইহাজারের দুপ্তারা ইউনিয়নের সত্যভান্দি এলাকায় আঙ্গুরের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তার বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন। হামলার জন্য আঙ্গুর তার প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থীর দিকে অভিযোগের তীর ছুড়েন। ওই ঘটনার পর তাই সতর্কতা হিসেবে শেষ নির্বাচনী মিছিলে লাঠি রেখেছেন তার সমর্থকরা।

আড়াইহাজারের পায়রা চত্ত্বর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত এলাকায়ও সব পক্ষ ব্যাপক প্রচার চালিয়েছে। শুরুতে প্রচারে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত আতাউর রহমান খান আঙ্গুর বেশ এগিয়ে থাকলেও শেষ মুহুর্তে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী-সমর্থকরা মাঠে নামার পাশাপাশি আঙ্গুর বলয়ের কিছু লোকজনও বিএনপির প্রার্থীর দিকে চলে আসায় নজরুল ইসলাম আজাদ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে জানালেন মেঘনা পারের দুর্ঘম অঞ্চল খাগকান্দা থেকে আড়াইহাজার সদরে কলা বিক্রি করতে আসা কৃষক এমরান আলী।

তিনি বললেন, তাদের এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা ‘প্রফেসর সাব’ নজরুল ইসলাম আজাদের পক্ষে কাজ করছেন। ওই নেতার নাম তিনি জানাননি।

সব অঞ্চলেই বিএনপির পক্ষে আ.লীগ সমর্থকরা
নির্বাচন ঘিরে ভোটের মাঠে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ আর নানা হিসাব-নিকাশ। নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভোটের মাঠে না থাকা আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক কর্মী ও সমর্থক। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকার জন্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আওয়ামী লীগ। দলটির শীর্ষ নেতারাও দেশছাড়া। অনেকে রয়েছেন কারাবন্দি। এ অবস্থায় মাঠে থাকা আওয়ামী সমর্থক ভোটাররা নিজেদের নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ এবং স্থানীয় বাস্তবতা মিলিয়ে ও টিকে থাকার জন্য আস্থার জায়গা খুঁজে ভোট দেওয়ার চিন্তা করছেন।

গোপলদী পৌরসভার বিশাল এলাকায় কাজ করছেন পৌর মেয়র এম এ হালিম সিকদার ও উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল লতিফ মোল্লা নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও এর অংসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের উপস্থিতিতে ভোটের হিসাব নিকাশে বেশ প্রভাব পড়েছে। গোপালদী এলাকার হোসেন দেলোয়ার বলেন, গোপালদী পৌরসভা আওয়ামী লীগের বিশাল একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে। নজরুল ইসলাম আজাদ এই এলাকার লোকদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সাথে নিয়ে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করবেন। তার দ্বারা কোন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী সমর্থক কোন ধরনের সমস্যায় পড়বে না। যেহেতু নৌকা মার্কা নেই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী সমর্থকরা তাঁর প্রতিশ্রুতির কারণে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন।

এ ব্যাপারে পৌর মেয়র হালিম সিকদারের ঘনিষ্টরা জানান, গোপালদী পৌর মেয়র হওয়ার পর থেকে তাকে কেউ পরাজিত করতে পারেনি। তার নিজস্ব একটি বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। তিনি এলাকায় অবস্থান করে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদকে সমর্থন জানিয়েছেন।

একইভাবে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়েছেন আড়াইহাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান, মাহমুদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমানউল্যাহ আমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মেহের আলী মোল্লা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, যুবলীগ সভাপতি আহাম্মেদুল কবির উজ্জ্বল, ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের অঞ্চলভিত্তিক অসংখ্য নেতাকর্মী।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মেহের আলী মোল্লা জানান, এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী না হলে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এগিয়ে যাবে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোক হিসেবে এটা তিনি মানতে পারবেন না। বিএনপি প্রার্থী দলমত সবাইকে সাথে নিয়ে আড়াইহাজারকে এগিয়ে নিতে চান। জনস্বার্থ বিবেচনা করে আজাদকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে।

খাগকান্দা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত দাবী করে ওই ইউয়িনের বাসিন্দা রহমান মিয়া বলেন, যেকোন নির্বাচেনে প্রয়াত এমপি সামছুল হকের পরিবারের ওই ইউনিয়নের বেশ প্রভাব রয়েছে। ওই এলাকার বাসিন্দা ও ওই পরিবারের একজন সদস্য মুড়াপাড়া ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যাপক মফিজুল হক ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বিএনপির প্রার্থীর সমর্থনে কাজ করছেন। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলামও মাঠে নেমে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন। এর ফলে ওই ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থীর একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে।

ভোটের মাঠ সম্পর্কে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক বীর মুক্তিযোদ্ধ রুহুল আমিন বাবুল বলেন, আওয়ামী কর্মী-সমর্থকদের অংশগ্রহণ বিশ্লেষণে মনে হচ্ছে, তাদের একটি বড় অংশই এবার বিএনপির দিকে ঝুঁকছে। এর পেছনে নানা কারণের মধ্যে এবারের ভোটের লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী সমর্থকদের নিরাপত্তা ও মুক্তিযুদ্ধ ইস্যুটি নতুন করে সামনে এসেছে। এর পেছনে নির্বাচনী কৌশল জড়িয়ে রয়েছে।

তবে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা শুধু বিএনপিকে সমর্থন দেবে- এ বিষয়টি মানতে নারাজ প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। এ আসনের জামায়াতের ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক ইলিয়াস মোল্লা বলেন, আওয়ামী লীগের ভোট দাঁড়িপাল্লায় যাবে। তবে আমরা একটা ফ্রি ফেয়ার ইলেকশন হবে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু প্রতিপক্ষ বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে ভোট কেন্দ্র দখল করবে, সিল মারবে, এজেন্ট থাকতে দেবে না এমন হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা সন্ত্রাস তৈরি করে নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে পারে।

একই ধরনের কথা বলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আঙ্গুর। তিনি বলেন,  বিএনপির প্রার্থীর পক্ষ থেকে আমার লোকজনকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এরপরও আমি নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারলে আমিই জয়ী হব।

নিজের পক্ষে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রচার সম্পর্কে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, আড়াইহাজার মূলত বিএনপির ঘাটি। এরপরও নির্বাচনে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি যাতে জয়ী হতে না পারে সেজন্য আওয়ামী লীগের কেউ কেউ স্বেচ্ছায় আমর পক্ষে নেমেছেন। প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের উপর হামলা, নির্বাচনী কাজে বাধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট। আমার ব্যাপক জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষরা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এছাড়াও এই আসনে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির আবু হানিফ হৃদয়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মুফতী মো. হাবিবুল্লাহ, গণ অধিকার পরিষদের কামরুল মিয়া, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির হাফিজুল ইসলাম নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।

সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও ইউএনও আসাদুর রহমান জানান, আড়াইহাজারে মোট ভোট কেন্দ্র ১১৮টি। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৪৪টি, ঝুঁকিপূর্ণ ৭৪টি। তিনি বলেন, কোনো প্রার্থী যদি হুমকি ধামকির ব্যাপারে কোনো অভিযোগ করেন তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।