সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করলেন শামা ওবায়েদ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট। এ ক্ষেত্রে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল রয়েছে।বুধবার হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার দশম বার্ষিকী উপলক্ষে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকার ও বিদেশি কূটনীতিকরা নিহতদের স্মরণ করে শান্তি, সহনশীলতা ও মানবতার মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার করেন।[BANGVIEWS-POST:1022]শামা ওবায়েদ বলেন, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, আদর্শিক বা অন্য কোনো কারণেই সন্ত্রাসবাদকে ন্যায্যতা দেওয়া যায় না। সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সরকার সব পর্যায়ে দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।তিনি বলেন, এ ধরনের শক্তির বাংলাদেশে কোনো স্থান নেই। দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে কাউকে সুযোগ দেওয়া হবে না।২০১৬ সালের ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় দেশি-বিদেশি নাগরিকসহ ২৪ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ইতালির নয়জন নাগরিকও ছিলেন। এই হামলাকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।হামলার দশম বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার বিকেলে নিজের বাসভবনে স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করেন বাংলাদেশে ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো।অনুষ্ঠানে ইতালির রাষ্ট্রদূত বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনা ভুলে যাওয়া যাবে না। এমন ঘটনা যেন আর কখনো না ঘটে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ইতালির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশে ইতালি দূতাবাসের কনস্যুলার শাখার প্রধান লরা স্কেলা নিহতদের নাম পাঠ করেন। পরে তাদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।এ সময় বাংলাদেশে কূটনৈতিক কোরের ডিন ও ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনইচি সাইদা, ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত উপপ্রধান আলবার্ট সিয়া এবং বাংলাদেশ পুলিশের একজন প্রতিনিধি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।নিহতদের স্মরণে উপস্থিত সবাই এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামা ওবায়েদ বলেন, দশ বছর পেরিয়ে গেলেও হলি আর্টিজানের সেই রাতের ক্ষত জাতীয় স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায়।তিনি বলেন, ওই হামলা ছিল আশা, মানবতা এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের অভিন্ন মূল্যবোধের ওপর আঘাত। বাংলাদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি ভারত, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা নিহতদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। একই সঙ্গে তাদের সাহস, দৃঢ়তা ও মানবিক মূল্যবোধকেও সম্মান করি।হলি আর্টিজান হামলাকে মানবতার ওপর নির্মম আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ছিল বাংলাদেশের সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজে ভয়, ঘৃণা ও বিভাজন তৈরির অপচেষ্টা। তবে সেই ভয়াবহ ঘটনার মুখেও বাংলাদেশ দৃঢ়তা দেখিয়েছে।শামা ওবায়েদ বলেন, এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অভিন্ন মূল্যবোধ রক্ষায় জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সংহতি ও সম্মিলিত সতর্কতা কতটা জরুরি।[BANGVIEWS-POST:1020]তিনি জানান, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ মোকাবিলায় সরকার সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করেছে। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, নাগরিক সমাজ, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নারী ও তরুণ, বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, হলি আর্টিজান হামলার সঙ্গে জড়িতদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রচেষ্টায় অবদান রেখে শান্তি, নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে।তিনি নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।