ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় তাদের জীবনের প্রতি মুহূর্তেই যে ঝুঁকি ছিল তা প্রকাশ্যে আনেন। তিনি বলেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন ইরানি দল ওয়াশিংটনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চালানোর সময় বোমা হামলার আশঙ্কা করতেন।[BANGVIEWS-POST:2181] মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে একটি বৈঠকের ক্ষেত্রে আরাগচি স্মরণ করেন, “আমি উইটকফকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আপনি কি কখনই এমন আলোচনায় ছিলেন যেখানে মনে হয় যেকোনো সময় বৈঠকটি বোমা হামলায় ধ্বংস হতে পারে? ফোনে এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় কি কখনো মনে হয়েছে এটি হয়তো শেষ কথা?” আরাগচি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত হুমকি সত্ত্বেও ইরান কখনো পিছু হটেনি। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামানোর অযৌক্তিক দাবি প্রত্যাখ্যান করে ইরান শক্ত অবস্থানে ছিল। যখন আমেরিকা বুঝতে পারল, আলোচনা তাদের উদ্দেশ্য সফল করতে পারবে না, তখন তারা যুদ্ধের পথ বেছে নেয়।” তিনি বলেন, “আপনাদের আলোচনা করতে হবে, হুমকি বা প্রলোভনে আমাদের নড়ানো যাবে না। আমাদের দৃঢ় অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।” আরাগচি আরও বললেন, ১২ দিনের যুদ্ধে ইরান জয়ী হয়েছে। আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ দিয়ে ইরানকে নতি স্বীকার করানোর পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান ভেনেজুয়েলার মতো একক নেতার ওপর নির্ভরশীল নয়। এখানে বিভিন্ন স্তরের ক্ষমতা কাঠামো রয়েছে এবং ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব রয়েছে। এই সাক্ষাৎকারটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক মধ্যস্থতায় ভেঙে পড়ার পর প্রকাশ হয়েছে। এদিকে মার্কিন বাহিনী ইরানে টানা নবম দিন হামলা চালাচ্ছে, জেনারেল তিন সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।