রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শনের পর আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ দাবি জানান।হামলার পেছনে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় থাকার অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, “সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় অপকর্ম করার সাহস কেউ করতে পারে না।” তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গাছের গোড়া কেটে মাথায় পানি দেবেন, এটা জনগণ দেখতে চায় না। সর্প হয়ে দংশন করা, আর ওঝা হয়ে ঝাড়ার নাটক আমরা দেখতে চাই না। আমরা দেখতে চাই অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হোক।”ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালানোর সাহস না পায়, সে জন্য সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।দেশের স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “সরকার একদিকে বলবে জনগণের দুয়ারে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেব, আবার অন্যদিকে যেখানে-সেখানে ডাক্তার, নার্স ও হাসপাতালের কর্মচারীদের অপমান করা হবে—এভাবে কখনো স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।”স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, সীমিত জনবল দিয়েই বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে মানবিক ও যৌক্তিক আচরণ করার পাশাপাশি সব ধরনের দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। মোহাম্মদপুরে অস্ত্র ও চাপাতি নিয়ে বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ এবং ইসিবি চত্বরে একজন জুলাই যোদ্ধার স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনার নিন্দা জানান তিনি। জমিসংক্রান্ত বিরোধ থাকলেও গভীর রাতে হামলা চালানোর কোনো আইনি সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এই ধরনের অপকর্মের সঙ্গে আমার দলের লোক তো দূরের কথা, আমি নিজেও যদি জড়িত থাকি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন আমাকেও ছাড় না দেয়। আমাকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসুন।”ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের পুনর্বাসনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান ডা. শফিকুর রহমান। এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে আরও সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।