দুর্যোগ কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) একটি স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। একই সঙ্গে এ স্বেচ্ছাসেবকদের জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন (বিটিএফ) ও বাঁধন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত থ্যালাসেমিয়া সচেতনতামূলক সেশন, কুইজ প্রতিযোগিতা ও দিনব্যাপী স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন উপাচার্য।অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন ও বাঁধনকে এ ধরনের মানবিক ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, "স্বেচ্ছায় রক্তদান ও রক্ত সংগ্রহ একটি মহৎ মানবিক কাজ। যারা নিঃস্বার্থভাবে এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তারা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।"[BANGVIEWS-POST:4466]তিনি আরও বলেন, "সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে অনেক মানুষের প্রয়োজন হয় না দায়িত্বশীল ও কার্যকর অল্পসংখ্যক মানুষও পরিবর্তন ঘটাতে পারেন। তাই মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত সংগঠনগুলোকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া প্রয়োজন।"স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠনের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, "অচিরেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হবে। এ টিম দুর্যোগকালীন সময়ে উদ্ধার ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি এসব স্বেচ্ছাসেবকের জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি নিশ্চিত করার বিষয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হবে।"তিনি আরও বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে বাঁধন, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটের মতো সংগঠনগুলো সমাজের প্রতি কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। এসব সংগঠনের কার্যক্রম আরও জোরদার করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।"দিনব্যাপী কর্মসূচিতে থ্যালাসেমিয়া বিষয়ে সচেতনতামূলক সেশনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সেরা পাঁচজন বিজয়ীকে বিশেষ পুরস্কার ও শুভেচ্ছা স্মারক দেওয়া হয়। এছাড়া অংশগ্রহণকারী সব শিক্ষার্থীকে অফিসিয়াল সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।[BANGVIEWS-POST:4464]কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রম। রক্তদাতাদের জন্য বিনামূল্যে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সংক্রামক রোগের পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষাগুলোর মধ্যে ছিল হেপাটাইটিস-বি, অ্যান্টি-এইচবিসিএবি, হেপাটাইটিস-সি, এইচআইভি, সিফিলিস ও ম্যালেরিয়া।রক্তদাতাদের পরীক্ষার রিপোর্টের পাশাপাশি পুষ্টিকর স্ন্যাকস ও বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন (বিটিএফ) কো-ব্র্যান্ডেড পানির বোতল দেওয়া হয়। নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তাদের জন্য পৃথক ও নিরাপদ রক্তদানের বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়। আয়োজকরা জানান, নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় রক্তদানে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।