সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করছে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, কল্যাণ ও ওয়েজবোর্ড নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ নিয়ে আয়োজিত কনসালটেশন সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় আগের বৈঠকে পাওয়া মতামতের ভিত্তিতে একটি প্রেজেন্টেশনও উপস্থাপন করা হয়। একই দিনে প্রস্তাবিত আইন নিয়ে গণমাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত সাংবাদিকরা যেন তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন এবং সাংবাদিক নন—এমন কেউ যেন সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধা নিতে না পারেন, সেজন্য সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সংজ্ঞা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড, পেশাগত অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সহায়তা প্রকৃত সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য কারা সাংবাদিক হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং কারা হবেন না, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন।সাংবাদিকদের পেশাগত স্বীকৃতির জন্য একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরির প্রস্তাবও দেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। বার কাউন্সিলের মতো কোনো ব্যবস্থা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও কার্যকর করা সম্ভব কি না, সে বিষয়ে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ চান তিনি।সভায় ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, একুশে টেলিভিশনের সিইও আবদুস সালাম, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সিইও মোস্তফা আকমল, আরটিভির হেড অব নিউজ ইলিয়াস হোসেন, দৈনিক প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।এ সময় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও বক্তব্য দেন। প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন যেন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক থাকবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।