দুই দিনের সফরে ফ্রান্সে অবস্থান করছেন সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। রোববার প্যারিসে ইস্পোর্টস বিশ্বকাপের সমাপনী অনুষ্ঠানে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তার সফরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। সৌদি আরবের বাইরে এবারই প্রথম ইস্পোর্টস বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার দুই নেতা ফ্রান্স-সৌদি কৌশলগত অংশীদারত্ব পরিষদের প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি গুরুত্ব পাবে। ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ফ্রান্স ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হবে। [BANGVIEWS-POST:4367]বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে হরমুজ প্রণালির সংকট এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নির্ভরতা কমানোর উপায়। চলমান উত্তেজনার মধ্যে ফ্রান্স ও সৌদি আরব হরমুজ এড়িয়ে বিকল্প বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনপথের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে। এর মধ্যে উপসাগরের বাইরে ওমানের বন্দর ব্যবহার বাড়ানো, বিদ্যমান পাইপলাইনের সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং নতুন পরিবহন সংযোগ তৈরির মতো বিষয় রয়েছে। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ইস্যুও দুই নেতার আলোচনায় থাকার কথা। গাজা, লেবানন ও সিরিয়ার পরিস্থিতি এবং বৃহত্তর অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফেরানোর উপায় নিয়েও মতবিনিময় করবেন তারা। [BANGVIEWS-POST:4366]সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য, পরিবহন ও জ্বালানি খাতে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় বলছে, জ্বালানি, মহাকাশ ও প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে প্যারিস-রিয়াদ কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে নেওয়াই এবারের আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য। এ ছাড়া সৌদি আরবের ২০৩০ ওয়ার্ল্ড এক্সপো এবং ২০৩৪ ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির বিষয়টিও দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব পাচ্ছে। রোববার প্যারিসের গ্র্যান্ড প্যালেসে ইস্পোর্টস বিশ্বকাপের সমাপনী অনুষ্ঠানে ম্যাক্রোঁ ও মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: আল জাজিরা