ঢাকা    শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

স্টারলিংক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্পেসএক্সকে মার্কিন প্রশাসনের অনুরোধ

স্টারলিংক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্পেসএক্সকে মার্কিন প্রশাসনের অনুরোধ
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে ইরান, ইউক্রেন, ইয়েমেন ও লেবাননের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত ও কৌশলগত অঞ্চলে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা ‘স্টারলিংক’ ইচ্ছামতো চালু কিংবা বন্ধ করার জন্য স্পেসএক্সকে সরাসরি অনুরোধ জানিয়েছিল। মার্কিন প্রশাসনের সাবেক ছয়জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বিভিন্ন দেশের ভূ-রাজনীতি ও সামরিক সংঘাতে বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের ওপর ওয়াশিংটনের এমন ধারাবাহিক প্রভাব খাটানোর তথ্য এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে এলো।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সদস্যরা যেন স্টারলিংকের উচ্চগতির স্যাটেলাইট সংযোগ ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য স্পেসএক্সের জরুরি প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। একই সময়ে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর ফিল্ড যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সাধারণ নাগরিকদের জন্য অবাধ ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করতে স্টারলিংক টার্মিনাল সক্রিয় করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

২০২২ সালে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় প্রথম দফায় বাইডেন প্রশাসন স্টারলিংক চালুর আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করেছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনও ইরানে নতুন করে স্টারলিংক টার্মিনাল সরবরাহ ও তা চালু রাখার বিষয়ে ইলন মাস্ক ও স্পেসএক্সের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চালায়। তবে সেই টার্মিনালগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে সক্রিয় করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে স্পেসএক্স বা ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

এদিকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক যোগাযোগ ও দূরপাল্লার ড্রোন পরিচালনার প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত স্টারলিংকের সামরিক সংস্করণ ‘স্টারশিল্ড’ ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করায় নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ তুলেছেন, স্টারশিল্ডের সংযোগ ও গতি সীমিত করার ফলে ফ্রন্টলাইনে দেশটির ড্রোন অপারেশন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর জবাবে ইলন মাস্ক দাবি করেছেন, স্টারশিল্ডের গতি ও ভৌগোলিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার মূল ক্ষমতা স্পেসএক্সের নয়, বরং সরাসরি মার্কিন সামরিক বাহিনী ও খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এখতিয়ারে রয়েছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে বেসরকারি মার্কিন প্রযুক্তির ওপর এই মাত্রার একক নির্ভরতা এবং ওয়াশিংটনের ইচ্ছামতো তা নিয়ন্ত্রণ ইউরোপের মিত্র দেশগুলোকেও চরম উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের অনেকেই মত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সামরিক স্যাটেলাইট যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইউরোপের নিজস্ব ও স্বাধীন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ : স্টারলিংক স্পেসএক্স রয়টার্স

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


স্টারলিংক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্পেসএক্সকে মার্কিন প্রশাসনের অনুরোধ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে ইরান, ইউক্রেন, ইয়েমেন ও লেবাননের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত ও কৌশলগত অঞ্চলে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা ‘স্টারলিংক’ ইচ্ছামতো চালু কিংবা বন্ধ করার জন্য স্পেসএক্সকে সরাসরি অনুরোধ জানিয়েছিল। মার্কিন প্রশাসনের সাবেক ছয়জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বিভিন্ন দেশের ভূ-রাজনীতি ও সামরিক সংঘাতে বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের ওপর ওয়াশিংটনের এমন ধারাবাহিক প্রভাব খাটানোর তথ্য এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে এলো।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সদস্যরা যেন স্টারলিংকের উচ্চগতির স্যাটেলাইট সংযোগ ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য স্পেসএক্সের জরুরি প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। একই সময়ে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর ফিল্ড যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সাধারণ নাগরিকদের জন্য অবাধ ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করতে স্টারলিংক টার্মিনাল সক্রিয় করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

২০২২ সালে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় প্রথম দফায় বাইডেন প্রশাসন স্টারলিংক চালুর আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করেছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনও ইরানে নতুন করে স্টারলিংক টার্মিনাল সরবরাহ ও তা চালু রাখার বিষয়ে ইলন মাস্ক ও স্পেসএক্সের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চালায়। তবে সেই টার্মিনালগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে সক্রিয় করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে স্পেসএক্স বা ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

এদিকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক যোগাযোগ ও দূরপাল্লার ড্রোন পরিচালনার প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত স্টারলিংকের সামরিক সংস্করণ ‘স্টারশিল্ড’ ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করায় নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ তুলেছেন, স্টারশিল্ডের সংযোগ ও গতি সীমিত করার ফলে ফ্রন্টলাইনে দেশটির ড্রোন অপারেশন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর জবাবে ইলন মাস্ক দাবি করেছেন, স্টারশিল্ডের গতি ও ভৌগোলিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার মূল ক্ষমতা স্পেসএক্সের নয়, বরং সরাসরি মার্কিন সামরিক বাহিনী ও খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এখতিয়ারে রয়েছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে বেসরকারি মার্কিন প্রযুক্তির ওপর এই মাত্রার একক নির্ভরতা এবং ওয়াশিংটনের ইচ্ছামতো তা নিয়ন্ত্রণ ইউরোপের মিত্র দেশগুলোকেও চরম উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের অনেকেই মত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সামরিক স্যাটেলাইট যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইউরোপের নিজস্ব ও স্বাধীন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

সূত্র: রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ