গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর ও সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় গোপালগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফুল মিয়াসহ তিন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত অন্য দুই পুলিশ সদস্য হলেন কনস্টেবল শওকত ও কনস্টেবল জসিম।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ জানান, সদর থানা পুলিশের একটি নিয়মিত টহল দল এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিল। দুপুরে রঘুনাথপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট সংলগ্ন স্থানে গাড়ি থামিয়ে টহল দলের সদস্যরা সাময়িক বিশ্রামে ছিলেন। ওই সময় কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়। মিছিলকারীরা হকিস্টিক ও বিভিন্ন দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আকস্মিকভাবে পুলিশের টহল গাড়িতে হামলা চালায় এবং ব্যাপক ভাঙচুর করে।
একপর্যায়ে তারা কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের ওপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে এসআই ফুল মিয়াসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশ সুপার আরও উল্লেখ করেন, পুলিশ সদস্যরা শান্তভাবে সেখানে অবস্থান করছিলেন এবং মিছিলকারীদের কোনো ধরনের বাধার সৃষ্টি করেননি; সম্পূর্ণ অতর্কিতভাবেই এ হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কাজী হুমায়ুন রশীদ জানিয়েছেন, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা ও সরকারি যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনায় সদর থানায় নিয়মিত মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে এ বর্বরোচিত ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িতদের শনাক্ত ও দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এলাকায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্যসমূহ