ঢাকা    শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইয়ালু নদীর নতুন সেতু দিয়ে চীন সফরে কিম জং উন

ইয়ালু নদীর নতুন সেতু দিয়ে চীন সফরে কিম জং উন
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

উত্তর কোরিয়া ও চীনের সীমান্তবর্তী ইয়ালু নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত নতুন সেতু অতিক্রম করে চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানদংয়ে পৌঁছেছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) তিনি সেখানে পৌঁছান বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের সূত্রে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক এই কৌশলগত সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করার প্রায় এক সপ্তাহ পর কিম জং উন এই আকস্মিক ও তাৎপর্যপূর্ণ সফরে গেলেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, দানদংয়ে পৌঁছানোর পর কিম জং উনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক লেনদেন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও যোগাযোগ অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইয়ালু নদীর ওপর নির্মিত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এবং চার লেনের এই আন্তর্জাতিক সেতুর মূল নির্মাণকাজ ২০১৪ সালেই সম্পন্ন হয়েছিল। তবে সংযোগ সড়কের ঘাটতি, শুল্ক স্টেশন স্থাপন ও রাজনৈতিক জটিলতার কারণে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সেতুটি অকেজো হয়ে পড়ে ছিল। সম্প্রতি সব ধরনের লজিস্টিক সুবিধা নিশ্চিত করে সেতুটি দিনরাত সার্বক্ষণিক কনটেইনার ও ভারী পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই আধুনিক করিডোরটি চালু হওয়ায় বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বহু গুণ বৃদ্ধি পাবে।

ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোটের চাপ মোকাবিলার অংশ হিসেবে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে নিজেদের কৌশলগত বলয় আরও নিবিড় করতে চাইছেন কিম। ঐতিহাসিকভাবে চীন উত্তর কোরিয়ার বৃহত্তম অর্থনৈতিক লাইফলাইন ও কূটনৈতিক সমর্থক। অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার সঙ্গেও সামরিক সহযোগিতা গভীর করেছে পিয়ংইয়ং।

এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে চীন সফর করেছিলেন কিম। পরবর্তীতে চলতি বছরের (২০২৬) জুনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উত্তর কোরিয়া সফরকালে বাণিজ্য, কৃষি, ভারী শিল্প ও প্রযুক্তির মতো কৌশলগত খাতগুলোতে যৌথ সহযোগিতার রূপরেখা চূড়ান্ত করেন। সেই ধারাবাহিকতায় এই নতুন সেতুর উদ্বোধন ও কিমের সফরকে দুই দেশের মিত্রতার নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা 

ট্যাগ : কিম জং উন চীন সফর ইয়ালু নদী সেতু উত্তর কোরিয়া

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


ইয়ালু নদীর নতুন সেতু দিয়ে চীন সফরে কিম জং উন

প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

উত্তর কোরিয়া ও চীনের সীমান্তবর্তী ইয়ালু নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত নতুন সেতু অতিক্রম করে চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানদংয়ে পৌঁছেছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) তিনি সেখানে পৌঁছান বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি কর্মকর্তাদের সূত্রে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক এই কৌশলগত সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করার প্রায় এক সপ্তাহ পর কিম জং উন এই আকস্মিক ও তাৎপর্যপূর্ণ সফরে গেলেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, দানদংয়ে পৌঁছানোর পর কিম জং উনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক লেনদেন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও যোগাযোগ অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইয়ালু নদীর ওপর নির্মিত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এবং চার লেনের এই আন্তর্জাতিক সেতুর মূল নির্মাণকাজ ২০১৪ সালেই সম্পন্ন হয়েছিল। তবে সংযোগ সড়কের ঘাটতি, শুল্ক স্টেশন স্থাপন ও রাজনৈতিক জটিলতার কারণে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সেতুটি অকেজো হয়ে পড়ে ছিল। সম্প্রতি সব ধরনের লজিস্টিক সুবিধা নিশ্চিত করে সেতুটি দিনরাত সার্বক্ষণিক কনটেইনার ও ভারী পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই আধুনিক করিডোরটি চালু হওয়ায় বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বহু গুণ বৃদ্ধি পাবে।

ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোটের চাপ মোকাবিলার অংশ হিসেবে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে নিজেদের কৌশলগত বলয় আরও নিবিড় করতে চাইছেন কিম। ঐতিহাসিকভাবে চীন উত্তর কোরিয়ার বৃহত্তম অর্থনৈতিক লাইফলাইন ও কূটনৈতিক সমর্থক। অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার সঙ্গেও সামরিক সহযোগিতা গভীর করেছে পিয়ংইয়ং।

এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে চীন সফর করেছিলেন কিম। পরবর্তীতে চলতি বছরের (২০২৬) জুনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উত্তর কোরিয়া সফরকালে বাণিজ্য, কৃষি, ভারী শিল্প ও প্রযুক্তির মতো কৌশলগত খাতগুলোতে যৌথ সহযোগিতার রূপরেখা চূড়ান্ত করেন। সেই ধারাবাহিকতায় এই নতুন সেতুর উদ্বোধন ও কিমের সফরকে দুই দেশের মিত্রতার নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা 


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ