সাদপন্থিদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ব্যবহার করার তাদের কোনো ধরনের অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিশ্ব ইজতেমা-২০২৭ সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা এবং মাঠ ব্যবহারে সাদপন্থিদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে টঙ্গী ইজতেমা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আল্লামা বাবুনগরী দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “সাদপন্থিরা বিগত সময়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। তারা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, তাই টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে তাদের কোনো ধরনের সমাবেশ বা কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া যাবে না।”
সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা শায়খ সাজিদুর রহমান আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা তুলে ধরে জানান, বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে দেশের ৬৪ জেলার শীর্ষ প্রতিনিধি ও আলেমদের নিয়ে হেফাজত আমিরের সভাপতিত্বে এক সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠক থেকে সর্বসম্মতভাবে দুটি মৌলিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে: ১. টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থিরা কোনো প্রকার ইজতেমা, জোড় কিংবা তাবলিগি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। ২. ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার দ্রুত নিরপেক্ষ চার্জশিট দাখিল করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে শীর্ষস্থানীয় ৪১ জন আলেম মঞ্চে উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন। তাঁদের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী এবং আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা রশিদুর রহমান ফারুক অন্যতম।
উল্লেখ্য, আসন্ন বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব আগামী ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত রয়েছে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, উভয় পর্বের সার্বিক আয়োজন ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে শূরায়ি নেজাম বাংলাদেশ (জুবায়েরপন্থি)।
মন্তব্যসমূহ