ঢাকা    শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

যেকোনো অসম যুদ্ধের জন্য ইরানি বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত: আমির হাতামি

যেকোনো অসম যুদ্ধের জন্য ইরানি বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত: আমির হাতামি
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের ‘অসম যুদ্ধ’ (Asymmetric Warfare) ও সামরিক সংঘাত মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতি বজায় রেখেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কমব্যাট ড্রোনসহ মনুষ্যবিহীন সামরিক প্রযুক্তিতে দেশটির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে এবং যেকোনো বহিঃশত্রুর হুমকি প্রতিহতে বাহিনী এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী।

ইরানি সেনাবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক আক্রমণাত্মক কমব্যাট ড্রোন উৎপাদন ও গবেষণা কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। মেজর জেনারেল হাতামি জানান, আকাশযান, সারফেস ড্রোন থেকে শুরু করে মাইক্রো-ড্রোন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রযুক্তির সামরিক ব্যবহার সম্প্রসারিত হয়েছে, যা বর্তমানে তেহরানের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা কৌশলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে।

বিশেষ করে ‘আরশ’ (Arash) সিরিজের দূরপাল্লার আত্মঘাতী ড্রোন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ইরানি সেনাপ্রধান বলেন, অসম যুদ্ধে কার্যকর আধিপত্য বিস্তার করতে সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশের অস্ত্রভাণ্ডার এই ড্রোন ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করেই ঢেলে সাজানো হয়েছে। ড্রোন উৎপাদন, মাঠপর্যায়ে সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণসহ সেনাদের এ বিষয়ে সর্বোচ্চ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আগের অসম যুদ্ধেও শত্রুকে চমকে দিয়ে ভারী আঘাত হানার অভিজ্ঞতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরানের চারটি সামরিক শাখাই এখন প্রস্তুত এবং শত্রুপক্ষ কোন পথে আসবে তা অনুধাবন করেই পাল্টা জবাবের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

বক্তব্যে হরমুজ প্রণালির পূর্ব প্রান্ত এবং ওমান সাগরে ইরানি নৌবাহিনীর তৎপরতা তুলে ধরে জেনারেল হাতামি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, তেহরানের কঠোর অবস্থানের কারণে শত্রুপক্ষ ওমান সাগরে প্রবেশের সাহস দেখাচ্ছে না। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, ওই অঞ্চলে সন্দেহভাজন কোনো শত্রু জাহাজ প্রবেশ করা মাত্রই তা নিশ্চিতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হবে। সামুদ্রিক অবরোধ আরোপের যেকোনো প্রচেষ্টাকে সরাসরি ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

হরমুজ প্রণালি, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক চলাচল নিয়ন্ত্রণে ইরান স্বয়ংক্রিয় কন্ট্রোল ব্যবস্থা এবং নৌ-মাইন মোতায়েন করেছে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান জানান, মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে অন্য দেশগুলোর উচিত দুর্ঘটনা এড়াতে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর নির্দেশিত নিয়মাবলি মেনে চলা।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

ট্যাগ : আমির হাতামি তাসনিম নিউজ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


যেকোনো অসম যুদ্ধের জন্য ইরানি বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত: আমির হাতামি

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের ‘অসম যুদ্ধ’ (Asymmetric Warfare) ও সামরিক সংঘাত মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতি বজায় রেখেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কমব্যাট ড্রোনসহ মনুষ্যবিহীন সামরিক প্রযুক্তিতে দেশটির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে এবং যেকোনো বহিঃশত্রুর হুমকি প্রতিহতে বাহিনী এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী।

ইরানি সেনাবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক আক্রমণাত্মক কমব্যাট ড্রোন উৎপাদন ও গবেষণা কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। মেজর জেনারেল হাতামি জানান, আকাশযান, সারফেস ড্রোন থেকে শুরু করে মাইক্রো-ড্রোন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রযুক্তির সামরিক ব্যবহার সম্প্রসারিত হয়েছে, যা বর্তমানে তেহরানের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা কৌশলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে।

বিশেষ করে ‘আরশ’ (Arash) সিরিজের দূরপাল্লার আত্মঘাতী ড্রোন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ইরানি সেনাপ্রধান বলেন, অসম যুদ্ধে কার্যকর আধিপত্য বিস্তার করতে সেনাবাহিনীর একটি বড় অংশের অস্ত্রভাণ্ডার এই ড্রোন ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করেই ঢেলে সাজানো হয়েছে। ড্রোন উৎপাদন, মাঠপর্যায়ে সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণসহ সেনাদের এ বিষয়ে সর্বোচ্চ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আগের অসম যুদ্ধেও শত্রুকে চমকে দিয়ে ভারী আঘাত হানার অভিজ্ঞতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরানের চারটি সামরিক শাখাই এখন প্রস্তুত এবং শত্রুপক্ষ কোন পথে আসবে তা অনুধাবন করেই পাল্টা জবাবের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

বক্তব্যে হরমুজ প্রণালির পূর্ব প্রান্ত এবং ওমান সাগরে ইরানি নৌবাহিনীর তৎপরতা তুলে ধরে জেনারেল হাতামি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, তেহরানের কঠোর অবস্থানের কারণে শত্রুপক্ষ ওমান সাগরে প্রবেশের সাহস দেখাচ্ছে না। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, ওই অঞ্চলে সন্দেহভাজন কোনো শত্রু জাহাজ প্রবেশ করা মাত্রই তা নিশ্চিতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হবে। সামুদ্রিক অবরোধ আরোপের যেকোনো প্রচেষ্টাকে সরাসরি ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

হরমুজ প্রণালি, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক চলাচল নিয়ন্ত্রণে ইরান স্বয়ংক্রিয় কন্ট্রোল ব্যবস্থা এবং নৌ-মাইন মোতায়েন করেছে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান জানান, মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে অন্য দেশগুলোর উচিত দুর্ঘটনা এড়াতে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর নির্দেশিত নিয়মাবলি মেনে চলা।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ