রণক্ষেত্রে দূরনিয়ন্ত্রিত ড্রোন পরিচালনা, লক্ষ্যবস্তু নিখুঁতভাবে শনাক্তকরণ এবং শত্রুপক্ষের জ্যামিং এড়িয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখতে মহাকাশভিত্তিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বর্তমান আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ইলন মাস্কের স্পেসএক্সের তৈরি স্টারলিংকের একচ্ছত্র প্রভাব মোকাবিলার পাশাপাশি নিজেদের সামরিক যোগাযোগ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবার বিকল্প স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ‘রাসভেত’ (Rassvet) নিয়ে মাঠে নেমেছে রাশিয়া।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই স্টারলিংক নেটওয়ার্ক ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলা ও যোগাযোগে বড় ধরনের সুবিধা দিয়ে আসছে। মস্কো একপর্যায়ে অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ উপায়ে স্টারলিংক ব্যবহারের চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে স্পেসএক্স তাদের সেই প্রবেশাধিকার পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। পেন্টাগনের এক মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টারলিংকের সুবিধা হারানো মাত্রই রণাঙ্গনে প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারায় রুশ বাহিনী। সেই গুরুতর ঘাটতি মেটাতেই মহাকাশে নিজস্ব নেটওয়ার্ক স্থাপনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে মস্কো।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাসভেত নেটওয়ার্ক বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা রুশ কর্তৃপক্ষ ২০৩৫ সালের মধ্যে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে (LEO) অন্তত ৯০০টি ছোট স্যাটেলাইট স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বর্তমানে মহাকাশে তাদের এ ধরনের ৩১টি স্যাটেলাইট সক্রিয় রয়েছে। তবে সীমিত সংখ্যার কারণে সম্মুখসারিতে প্রতিদিন মাত্র কয়েক ঘণ্টা এগুলোর সংযোগ কার্যকর রাখা সম্ভব হয়। এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে আগামী বছরের মধ্যে কক্ষপথে স্যাটেলাইটের সংখ্যা ২৯২টিতে উন্নীত করতে চায় রাশিয়া।
যদিও স্টারলিংকের হাজার হাজার স্যাটেলাইটের তুলনায় এই সংখ্যা অনেকটাই কম, তবুও এটি সফল হলে যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনাদের যোগাযোগের সময়সীমা ও কার্যকারিতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাঙ্ক্ষিত সময়ের মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক স্যাটেলাইট সঠিক কক্ষপথে স্থাপন করা রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থার জন্য বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। ২০২৭ সালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় থাকলেও সামরিক বিশেষজ্ঞরা একমত যে, ভবিষ্যতের সংঘাতের ভাগ্য নির্ধারণে ট্যাংক কিংবা কামানের চেয়েও মহাকাশের এই তথ্যপ্রযুক্তিই বড় ব্যবধান গড়ে দেবে।
মন্তব্যসমূহ