ঢাকা    শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

প্রকাশ্যেই সরকারি খাল থেকে ড্রেজারে বালু উত্তোলন, হুমকিতে কৃষিজমি

প্রকাশ্যেই সরকারি খাল থেকে ড্রেজারে বালু উত্তোলন, হুমকিতে কৃষিজমি
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সরকারি খাল থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নির্বিচারে এই বালু উত্তোলনের ফলে খালের দুই পাড় ভেঙে সংলগ্ন কৃষিজমি বিলীন হওয়া এবং আশপাশের গ্রামীণ সড়ক ধসে পড়ার তীব্র আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় অবৈধ এ কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সদরপুর উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের কোকারাম সরকারেরকান্দি গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত রামনগর খালে শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন চলছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কাজল শেখ ও মুন্নাফ নামের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রশাসনের নজর এড়িয়ে সেখানে বালু তোলার কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে খালের তলদেশ থেকে বালু তুলতে থাকলে খালের স্বাভাবিক নাব্যতা বিনষ্টের পাশাপাশি আশপাশের কৃষিজমি বড় ধরনের ভাঙনের কবলে পড়বে। এতে পার্শ্ববর্তী সড়কগুলোও যে কোনো সময় খালে দেবে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রকাশ্যে ড্রেজার চালানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। কোকারাম সরকারেরকান্দি এলাকার এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, এমনিতেই এ অঞ্চলের মানুষকে প্রতি বছর পদ্মার ভাঙনে জমি-ভিটা হারাতে হয়। তার ওপর নতুন করে খালের মাঝে এমন বেপরোয়া ড্রেজিং চলতে থাকলে শেষ সম্বল কৃষিজমিও খালের পেটে চলে যাবে।

তবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করলেও অভিযোগ অস্বীকার করে ড্রেজার মালিক কাজল শেখ দাবি করেন, এই বালু উত্তোলনের জন্য কোনো সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। এটি সরকারি জায়গা নয় বরং ব্যক্তিগত জমি থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সরকারি খাল কিংবা জলাশয় থেকে অনুমতি ছাড়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধে প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হবে।

ট্যাগ : কৃষিজমি ড্রেজারে বালু উত্তোলন

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬


প্রকাশ্যেই সরকারি খাল থেকে ড্রেজারে বালু উত্তোলন, হুমকিতে কৃষিজমি

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সরকারি খাল থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নির্বিচারে এই বালু উত্তোলনের ফলে খালের দুই পাড় ভেঙে সংলগ্ন কৃষিজমি বিলীন হওয়া এবং আশপাশের গ্রামীণ সড়ক ধসে পড়ার তীব্র আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় অবৈধ এ কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সদরপুর উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের কোকারাম সরকারেরকান্দি গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত রামনগর খালে শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন চলছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কাজল শেখ ও মুন্নাফ নামের দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি প্রশাসনের নজর এড়িয়ে সেখানে বালু তোলার কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে খালের তলদেশ থেকে বালু তুলতে থাকলে খালের স্বাভাবিক নাব্যতা বিনষ্টের পাশাপাশি আশপাশের কৃষিজমি বড় ধরনের ভাঙনের কবলে পড়বে। এতে পার্শ্ববর্তী সড়কগুলোও যে কোনো সময় খালে দেবে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রকাশ্যে ড্রেজার চালানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। কোকারাম সরকারেরকান্দি এলাকার এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, এমনিতেই এ অঞ্চলের মানুষকে প্রতি বছর পদ্মার ভাঙনে জমি-ভিটা হারাতে হয়। তার ওপর নতুন করে খালের মাঝে এমন বেপরোয়া ড্রেজিং চলতে থাকলে শেষ সম্বল কৃষিজমিও খালের পেটে চলে যাবে।

তবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করলেও অভিযোগ অস্বীকার করে ড্রেজার মালিক কাজল শেখ দাবি করেন, এই বালু উত্তোলনের জন্য কোনো সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। এটি সরকারি জায়গা নয় বরং ব্যক্তিগত জমি থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সরকারি খাল কিংবা জলাশয় থেকে অনুমতি ছাড়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধে প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ