পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কৌশলগত বেলুচিস্তান প্রদেশের গোয়াদর বন্দর এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে অন্তত তিনজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের জনশূন্য ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশ ও হামলার একটি বড় পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে গিয়ে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রেডিও পাকিস্তানের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গোয়াদরের একটি ফাঁকা নির্মাণ ক্যাম্পে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নাশকতার পরিকল্পনা সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে দ্রুত পৌঁছায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা হামলা চালানোর চেষ্টা করলে বাহিনীর সদস্যরা তাৎক্ষণিক জবাব দেন, যাতে ঘটনাস্থলেই তিন সন্ত্রাসী নিহত হয়। অভিযানে ক্যাম্পটির সংলগ্ন এলাকায় আরও তিনজন সশস্ত্র জঙ্গিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। তাদের জীবিত আটক অথবা নিষ্ক্রিয় করতে এখনও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, ক্যাম্পের অভিযানের পাশাপাশি গোয়াদর মহাসড়কের কাছে অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেলেও সশস্ত্র ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পৃথক আরেকটি সমন্বিত অভিযান চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে রেডিও পাকিস্তান জানিয়েছে, ওই হোটেলটির ভেতরে অন্তত চারজন হামলাকারী অবস্থান নিয়ে রয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা কর্ডন বা ঘিরে রেখেছে। হোটেলটিতে যাতে কোনো বেসামরিক নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টি মাথায় রেখে চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানে, বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে জঙ্গি হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশটিতে গত ১২ বছরের মধ্যে এক মাসে সর্বোচ্চসংখ্যক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। গোয়াদরে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপেক) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্প ও স্থাপনা থাকায় অঞ্চলটিতে সার্বক্ষণিক উচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবারের দুটি চলমান অভিযানের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল এবং এতে নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
মন্তব্যসমূহ