পারস্য উপসাগরে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পথ লঙ্ঘন এবং জাহাজ থেকে জাহাজে জ্বালানি তেল স্থানান্তরের সময় চারটি জলযানে সরাসরি আক্রমণ চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী। হামলায় লক্ষ্যবস্তু হওয়া চারটি জাহাজেই একযোগে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া কৌশলগত হরমুজ প্রণালির পশ্চিমে নৌ-মাইন বিস্ফোরণে আরও তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাতে প্রকাশিত আইআরজিসির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আইআরজিসি নৌবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলো মার্কিন আগ্রাসী বাহিনীর বিভ্রান্তিকর নির্দেশনায় পরিচালিত হয়ে নির্ধারিত ও বৈধ নৌপথ বারবার লঙ্ঘন করে আসছিল। সতর্কবার্তা অমান্য করায় আইআরজিসির টহল দল তাদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও অনুসরণ করে। পরবর্তীতে উত্তর পারস্য উপসাগরে আন্তর্জাতিক বিধি ভেঙে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে অপরিশোধিত তেল খালাসের সময় জাহাজগুলোকে শনাক্ত করা হয় এবং একযোগে হামলা চালিয়ে সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, বুধবার দিবাগত রাতে হরমুজ প্রণালির পশ্চিম অংশে মাইন বিস্ফোরণের কবলে পড়ে আরও তিনটি জাহাজ। বিস্ফোরণের পর সেগুলোতেও আগুন ধরে যায় এবং বর্তমানে জাহাজগুলোর চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। সামুদ্রিক এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনার পেছনে মার্কিন বলদর্পী নীতির সমালোচনা করে আইআরজিসি জানায়, ওয়াশিংটন বাণিজ্যিক নৌযানগুলোকে মাইনপোতা ও বেআইনি পথ দিয়ে চলাচল করতে প্ররোচিত করায় এ ধরনের ঝুঁকি ও ক্ষতি বাড়ছে।
আইআরজিসি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে স্পষ্ট জানিয়েছে, “সন্ত্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনী” যদি এ ধরনের উসকানিমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখে, তবে এই সংঘাতের বিস্তার কেবল সাগরে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থিত আগ্রাসী মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও সরাসরি আঘাত হানা হবে। একই সাথে ইরানের সাধারণ জনগণের পূর্ণ সমর্থনে আইআরজিসি নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালির সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি
মন্তব্যসমূহ