আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান ও বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যকার রাজনৈতিক লড়াই চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। তবে বিশাল অঙ্কের নির্বাচনী তহবিল এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে চরম নেতিবাচক প্রচারণা সত্ত্বেও জাতীয় পর্যায়ে ডেমোক্র্যাটদের আধিপত্য খর্ব করতে পারছে না রিপাবলিকান দল। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাজের প্রতি জনসমর্থন মাত্র ৩১ শতাংশে নেমে এসেছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে যেকোনো ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য সর্বনিম্ন।
নির্বাচনী পূর্বাভাস বিশেষজ্ঞ নেট সিলভারের সর্বশেষ মডেল অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা এখন ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা ৭৫ শতাংশ। এই পূর্বাভাসে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের ২৪টি এবং সিনেটে ৫টি আসন বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সিলভার বুলেটিনের ২০ অক্টোবরের হালনাগাদ তথ্যে জাতীয় কংগ্রেসনাল ব্যালটে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে রেকর্ড ৯ দশমিক ৭ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে।
নির্বাচনী ময়দানে রিপাবলিকানদের পিছু হটার স্পষ্ট প্রমাণ মিলছে নর্থ ক্যারোলাইনা ও জর্জিয়ায়, যেখানে নিশ্চিত পরাজয় আঁচ করতে পেরে রিপাবলিকানরা তাদের প্রচার বিজ্ঞাপনের বরাদ্দ বাতিল বা স্থগিত করেছে। নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে বরাদ্দ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কানসাসের ঝুঁকিপূর্ণ আসনে, যেখানে চিকিৎসক থেকে সিনেটর হওয়া রজার মার্শাল চিকিৎসা ফি না দেওয়া নিম্ন আয়ের রোগীদের জেলে পাঠানোর কেলেঙ্কারিতে পড়ে কোণঠাসা হয়ে আছেন। এমনকি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বর্তমান স্পিকার মাইক জনসনও পরাজয় মেনে নিয়ে রাজনীতি ছেড়ে ব্যবসায় ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পলিটিকো।
তবে পিছিয়ে থাকলেও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে রিপাবলিকানরা। বিশেষ করে মিশিগান, টেক্সাস ও মেইন অঙ্গরাজ্যের লড়াইয়ে ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্কের মতো শীর্ষ দাতাদের অর্থ ঢালা হচ্ছে। জুলাই থেকে মাস্ক একাই রিপাবলিকান সুপার প্যাকগুলোকে ২৭৬ মিলিয়ন ডলার দিয়েছেন এবং ট্রাম্প তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার খরচের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মিশিগানে প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সাইয়েদ এবং টেক্সাসে জেমস টালারিকোকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও নেতিবাচক বিজ্ঞাপনে জর্জরিত করতে শত শত মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হচ্ছে। ট্রাম্প নিজে এই আক্রমণাত্মক প্রচারণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
মূলত জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং চলমান ইরান যুদ্ধ ভোটারদের বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফক্স নিউজের জরিপ বলছে, ৮৮ শতাংশ ভোটার বর্তমান প্রশাসনের দুর্নীতি নিয়ে গভীরভাবে শঙ্কিত এবং ৭১ শতাংশ মানুষ মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র ভুল পথে চলছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই বড় ধরনের তদন্ত ও অভিশংসনের (ইমপিচমেন্ট) উদ্যোগ নিতে পারে—এই আতঙ্ক থেকেই ট্রাম্প নিজে মাঠে নেমেছেন। তবে জনসমর্থন তলানিতে থাকায় খোদ কেন প্যাক্সটন বা সুসান কলিন্সের মতো রিপাবলিকান প্রার্থীরাই এখন ট্রাম্পকে নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যের প্রচারণায় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন।
মন্তব্যসমূহ