ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকাজুড়ে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন দফা হামলায় দুই শিশু ও এক দম্পতিসহ অন্তত সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এসব হামলায় আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ১০ জন বেসামরিক নাগরিক। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিনভর গাজার উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল ও গাজা সিটির বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় বিমান, ড্রোন ও হেলিকপ্টার থেকে এই বর্বর আক্রমণ চালানো হয়। চিকিৎসা সূত্রের বরাতে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় হাসপাতাল ও উদ্ধারকারী দল সূত্রে জানা যায়, মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থীশিবিরের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা কবরস্থানের কাছে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত ও অপর একজন গুরুতর আহত হন। একই সময়ে উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের আল-কুসাইস এলাকায় ড্রোন হামলায় মারাত্মক জখম হওয়া এক ফিলিস্তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়া মধ্য গাজার ওয়াদি গাজা এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সরাসরি গুলিতে প্রাণ হারায় এক ফিলিস্তিনি শিশু এবং গাজা সিটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেইতুন এলাকায় অপর এক ব্যক্তি নিহত হন।
সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলে আল-শিফা হাসপাতালের অদূরে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেখানকার একটি জনবহুল আবাসিক বাড়ি লক্ষ্য করে ইসরায়েলি সামরিক হেলিকপ্টার থেকে অন্তত একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এতে বাড়িটি তাৎক্ষণিকভাবে ধসে পড়ে আগুন ধরে যায় এবং ঘটনাস্থলেই এক দম্পতি নিহত হন। বাড়িটিতে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে সিভিল ডিফেন্স ও ফায়ার সার্ভিস। ওই বাড়ি থেকে আহত অবস্থায় চারজনকে উদ্ধার করে আল-শিফা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যাঁদের মধ্যে তিনজনই নারী।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করে চলেছে ইসরায়েল। এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ চলাকালীনই দখলদার বাহিনীর হামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৪২১ জন আহত হয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদি হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি। এছাড়া চলমান ধ্বংসযজ্ঞে উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবন পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
মন্তব্যসমূহ