মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে যেকোনো মুহূর্তে নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধ ও সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস থেকে নির্দিষ্ট কূটনৈতিক কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়ার (‘অর্ডার্ড ডিপারচার’) জোরালো প্রস্তুতি শুরু করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট)। তিনজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স বুধবার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের প্রাণঘাতী পাল্টা হামলার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকিকে কেন্দ্র করেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কর্মকর্তাদের মধ্যে দুজন উল্লেখ করেছেন, এই বাধ্যতামূলক প্রত্যাহারের নির্দেশনার ফলে সৌদি আরবে নিযুক্ত সমগ্র মার্কিন কূটনৈতিক মিশন ও সংশ্লিষ্ট পরিবারবর্গকে পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়ার (কমপ্লিট ইভাকুয়েশন) পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বুধবার রিয়াদস্থ মার্কিন দূতাবাস থেকে প্রকাশিত একটি জরুরি নিরাপত্তা সতর্কবার্তার (সিকিউরিটি অ্যালার্ট) পরপরই এই প্রত্যাহারের প্রস্তুতি শুরু হয়। ওই সতর্কবার্তায় হুথিদের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলা—বিশেষ করে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো ভয়াবহ আঘাতের পর—সৌদি আরবের অভ্যন্তরে আরও বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।
এদিকে গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক উত্তেজনা এখন চরমে পৌঁছেছে। সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের (Axios) এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইসরায়েলের বিমানবাহিনীর কয়েক ডজন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট সম্প্রতি প্রায় ৮০০ মাইল পাড়ি দিয়ে সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা অতিক্রম করে সরাসরি ইরানের সীমান্ত পর্যন্ত উড়ে গিয়ে শক্তি প্রদর্শন (‘পাওয়ার প্রজেকশন’) করেছে।
অন্যদিকে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল ও মদিনার আকাশসীমায় একের পর এক হুথি ড্রোন ভূপাতিত করার তথ্য জানিয়েছে সৌদি সামরিক জোট। লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক ট্যাংকারে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। হরমুজ প্রণালির ওপর একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান জরুরি সিগন্যাল পাঠিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে। যদিও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন যে কূটনৈতিক সমাধানের সদিচ্ছা পেলে তেহরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সাত দিনের পরিকল্পনায় প্রস্তুত, তবে যুক্তরাষ্ট্রের অনড় অবস্থানের কারণে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির সম্ভাবনা ক্ষীণ। আঞ্চলিক এই বহুমুখী সামরিক মহড়া ও ক্রমাগত উত্তেজনার মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজ দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দূতাবাস কর্মীদের প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ