ক্ষমতাসীন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তাঁর দাবি, এই সমঝোতার ভিত্তি হলো পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পারস্পরিক সুবিধা ভাগাভাগি করে নেওয়া।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘গোয়েন্দা তথ্য’ সংক্রান্ত বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন ডাকসু ভিপি।
সাদিক কায়েম লিখেছেন, ‘বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বললেন, গোয়েন্দা তথ্য আছে, দুই দলের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এটা স্পষ্ট যে, সেই দুই দল হলো বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। আর এই সমঝোতার ভিত্তি হলো ভাগাভাগি করে লুটেপুটে খাওয়ার পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা।’
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারে গণভোটের রায় কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে জুলাইয়ের গণহত্যার বিচার এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ প্রসঙ্গে সাদিক কায়েম লিখেছেন, ‘প্রমাণ দরকার? সহস্র শহীদের রক্তে রঞ্জিত জুলাই সনদ কতটুকু বাস্তবায়ন করেছে বিএনপি? বিএনপি কি ৭০ শতাংশ মানুষের রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেছে? বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জুলাইয়ের গণহত্যাকারীদের বিচারে কি কোনো অগ্রগতি হয়েছে? বিএনপি কি বিদেশ থেকে কোনো গণহত্যাকারীকে দেশে আনতে পেরেছে, কিংবা আনার ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য তৎপরতা দেখিয়েছে?’
এরপর বিএনপি সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ডাকসু ভিপি। নারায়ণগঞ্জে দুই দলের কথিত সমঝোতা বৈঠক, ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন এবং বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে পদায়নের বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি।
সাদিক কায়েম লিখেছেন, ‘আমরা বরং দেখেছি বিএনপির আমলে খুনি জিয়াউল আহসান দাঁত বের করে হাসতে হাসতে আদালতে যায়। নারায়ণগঞ্জে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি গিয়ে দেখে, আওয়ামী লীগ-বিএনপির সমঝোতার বৈঠক চলছে। ময়লার ভাগাড় থেকে শুরু করে বড় বড় মেগাপ্রজেক্টের ব্যবসা আওয়ামী লীগ থেকে হাতবদল হয়ে যায় বিএনপির কাছে। জেলায় জেলায় বিএনপিতে গণহারে পদায়ন হয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। রাজধানীতে তারেক রহমানের আসনেই আওয়ামী লীগের বড় শোডাউন হয়। চট্টগ্রামে পূজা উদযাপনের অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা তারেক রহমানের অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করে, তারেক রহমানকে প্রটোকল দেয় ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের নেতারা।’
এসব অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে সাদিক কায়েম লিখেছেন, ‘এখন কেউ যদি বলে, আওয়ামী পুনর্বাসন লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই, তাহলে কি সেটা ভুল হবে?’
তবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কথিত সমঝোতা, ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর এবং রাজনৈতিক পুনর্বাসন নিয়ে সাদিক কায়েমের উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এসব অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি বা সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়াও মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
মন্তব্যসমূহ