চোরাচালানের মাধ্যমে প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার অবৈধ সোনা ও হীরা কেনাবেচা এবং অর্থপাচারের (মানিলন্ডারিং) মামলায় গ্রেপ্তার ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে এবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ঘটে যাওয়া একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোসহ ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সুমন মিয়া ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এ পৃথক দুটি আবেদন দাখিল করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গুলশান থানায় দায়ের করা মানিলন্ডারিং মামলায় এক দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হবে। পরবর্তীতে উত্তরা পশ্চিম থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্যোন অ্যারেস্ট (গ্রেপ্তার দেখানো) এবং ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণ ও পূর্ব প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শেষ দিন দুপুর ১২টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিএনএস সেন্টারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন মো. আ. জব্বার নামের এক ব্যক্তি। দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ তিনি বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়। দিলীপ কুমার আগরওয়ালা এই মামলার এজাহারভুক্ত ৩১ নম্বর আসামি।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে প্রথম গ্রেপ্তার করেছিল র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। পরবর্তীতে একাধিক হত্যা ও সহিংসতা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ায় সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। তবে কারামুক্তির ঠিক এক বছর পর গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় বনানী এলাকা থেকে সিআইডির মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরদিন ২০ অক্টোবর আদালত তাঁকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেই রিমান্ড মেয়াদ শেষেই এবার নতুন করে হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁর ওপর আইনি চাপ বৃদ্ধি পেল।
মন্তব্যসমূহ