টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র সামাজিক অসন্তোষ, হাজার হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট এবং সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্সে কারফিউয়ের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে জনসমাগমস্থলগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে দেশটির সরকার। মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং জরাজীর্ণ শিক্ষাব্যবস্থার সংকটের মুখে আন্দোলন দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
সহিংসতা রোধে রাজধানী প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক ও লে আল শপিং এলাকাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জোনে রাতের কারফিউ বহাল রাখা হয়েছে। লিওঁসহ অন্যান্য বড় নগরীতেও কঠোর বিধিনিষেধ জারি রয়েছে। তবে রোববার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট করেছেন, যাঁরা উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা ও কাজের পরিবেশ চেয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছেন, সরকার তাঁদের কথা গুরুত্বের সাথে শুনবে; কিন্তু কোনো অবস্থাতেই ধ্বংসাত্মক সহিংসতা সহ্য করা হবে না।
গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্যারিসের উপকণ্ঠে শ্রেণিকক্ষে মাত্রাতিরিক্ত শিক্ষার্থী, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন এবং প্রকট শিক্ষকসংকটের সমাধানের দাবিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে এ বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে এতে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন ও ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের কর্মীরা শামিল হলে এটি জাতীয় আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলন প্রশমনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে তিন হাজার বিকল্প শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।
তবে ফ্রান্স সরকারের বর্তমান আর্থিক সংকট সংস্কার কার্যক্রমের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার তথ্যমতে, দেশটির সরকারি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি ইউরোতে পৌঁছেছে, যা বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১১৯ শতাংশ। চলতি বছর দেশটির বাজেট ঘাটতি ৫.৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে এবং আগামী বছর ঋণের সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে ৯১.২ বিলিয়ন ইউরো। এদিকে পার্লামেন্টে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বাজেট অনুমোদন করতে গিয়ে সরকারকে অনাস্থা প্রস্তাবের ঝুঁকিসহ নানা রাজনৈতিক অচলাবস্থার মুখে পড়তে হচ্ছে।
মন্তব্যসমূহ