ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বিক্ষোভে অচল ফ্রান্স, প্রচণ্ড চাপে ম্যাক্রোঁ সরকার

বিক্ষোভে অচল ফ্রান্স, প্রচণ্ড চাপে ম্যাক্রোঁ সরকার
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র সামাজিক অসন্তোষ, হাজার হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট এবং সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্সে কারফিউয়ের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে জনসমাগমস্থলগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে দেশটির সরকার। মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং জরাজীর্ণ শিক্ষাব্যবস্থার সংকটের মুখে আন্দোলন দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

আগামী ২৪ অক্টোবরের নতুন বিক্ষোভ কর্মসূচি সামনে রেখে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ব্যাপকসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। এর আগে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ স্বীকার করেন যে, প্রশাসন বিক্ষোভের প্রাথমিক তীব্রতা যথাযথভাবে আঁচ করতে পারেনি; যার ফলে গত শনিবার কয়েকটি প্রধান শহরে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটে। দেশটির বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানিয়েছেন, সহিংসতার অভিযোগে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সংঘাতের মধ্যে মধ্য ফ্রান্সের লিমোজ শহরের একটি ঐতিহাসিক টাউন হলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

সহিংসতা রোধে রাজধানী প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক ও লে আল শপিং এলাকাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জোনে রাতের কারফিউ বহাল রাখা হয়েছে। লিওঁসহ অন্যান্য বড় নগরীতেও কঠোর বিধিনিষেধ জারি রয়েছে। তবে রোববার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট করেছেন, যাঁরা উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা ও কাজের পরিবেশ চেয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছেন, সরকার তাঁদের কথা গুরুত্বের সাথে শুনবে; কিন্তু কোনো অবস্থাতেই ধ্বংসাত্মক সহিংসতা সহ্য করা হবে না।

গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্যারিসের উপকণ্ঠে শ্রেণিকক্ষে মাত্রাতিরিক্ত শিক্ষার্থী, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন এবং প্রকট শিক্ষকসংকটের সমাধানের দাবিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে এ বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে এতে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন ও ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের কর্মীরা শামিল হলে এটি জাতীয় আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলন প্রশমনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে তিন হাজার বিকল্প শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

তবে ফ্রান্স সরকারের বর্তমান আর্থিক সংকট সংস্কার কার্যক্রমের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার তথ্যমতে, দেশটির সরকারি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি ইউরোতে পৌঁছেছে, যা বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১১৯ শতাংশ। চলতি বছর দেশটির বাজেট ঘাটতি ৫.৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে এবং আগামী বছর ঋণের সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে ৯১.২ বিলিয়ন ইউরো। এদিকে পার্লামেন্টে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বাজেট অনুমোদন করতে গিয়ে সরকারকে অনাস্থা প্রস্তাবের ঝুঁকিসহ নানা রাজনৈতিক অচলাবস্থার মুখে পড়তে হচ্ছে।

ট্যাগ : ফ্রান্স বিক্ষোভ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


বিক্ষোভে অচল ফ্রান্স, প্রচণ্ড চাপে ম্যাক্রোঁ সরকার

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র সামাজিক অসন্তোষ, হাজার হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট এবং সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্সে কারফিউয়ের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে জনসমাগমস্থলগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করেছে দেশটির সরকার। মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং জরাজীর্ণ শিক্ষাব্যবস্থার সংকটের মুখে আন্দোলন দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

আগামী ২৪ অক্টোবরের নতুন বিক্ষোভ কর্মসূচি সামনে রেখে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ব্যাপকসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। এর আগে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ স্বীকার করেন যে, প্রশাসন বিক্ষোভের প্রাথমিক তীব্রতা যথাযথভাবে আঁচ করতে পারেনি; যার ফলে গত শনিবার কয়েকটি প্রধান শহরে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটে। দেশটির বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানিয়েছেন, সহিংসতার অভিযোগে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সংঘাতের মধ্যে মধ্য ফ্রান্সের লিমোজ শহরের একটি ঐতিহাসিক টাউন হলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

সহিংসতা রোধে রাজধানী প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক ও লে আল শপিং এলাকাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জোনে রাতের কারফিউ বহাল রাখা হয়েছে। লিওঁসহ অন্যান্য বড় নগরীতেও কঠোর বিধিনিষেধ জারি রয়েছে। তবে রোববার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট করেছেন, যাঁরা উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা ও কাজের পরিবেশ চেয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছেন, সরকার তাঁদের কথা গুরুত্বের সাথে শুনবে; কিন্তু কোনো অবস্থাতেই ধ্বংসাত্মক সহিংসতা সহ্য করা হবে না।

গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্যারিসের উপকণ্ঠে শ্রেণিকক্ষে মাত্রাতিরিক্ত শিক্ষার্থী, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন এবং প্রকট শিক্ষকসংকটের সমাধানের দাবিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে এ বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে এতে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন ও ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের কর্মীরা শামিল হলে এটি জাতীয় আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলন প্রশমনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে তিন হাজার বিকল্প শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।

তবে ফ্রান্স সরকারের বর্তমান আর্থিক সংকট সংস্কার কার্যক্রমের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার তথ্যমতে, দেশটির সরকারি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি ইউরোতে পৌঁছেছে, যা বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১১৯ শতাংশ। চলতি বছর দেশটির বাজেট ঘাটতি ৫.৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে এবং আগামী বছর ঋণের সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে ৯১.২ বিলিয়ন ইউরো। এদিকে পার্লামেন্টে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বাজেট অনুমোদন করতে গিয়ে সরকারকে অনাস্থা প্রস্তাবের ঝুঁকিসহ নানা রাজনৈতিক অচলাবস্থার মুখে পড়তে হচ্ছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ