ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্বশীলদের বক্তব্যে সতর্কতা জরুরি: হেফাজতে ইসলাম

বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান হেফাজতের, দাবি পূরণ না হলে প্রতিবাদের হুঁশিয়ারি

রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্বশীলদের বক্তব্যে সতর্কতা জরুরি: হেফাজতে ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির নেতাদের দাবি, বক্তব্যটি ইসলামের মৌলিক তাওহিদি বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে। এ পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতিকে বক্তব্যটি প্রত্যাহার করে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির বক্তব্যে বিশেষ দায়িত্বশীলতা ও সতর্কতা থাকা প্রয়োজন। ইসলামের মৌলিক আকিদা অনুযায়ী, মহান আল্লাহ তাআলাই সমগ্র বিশ্বজগতের একমাত্র স্রষ্টা, পালনকর্তা ও রক্ষাকর্তা। তাঁদের মতে, কোনো দেব-দেবীকে সমগ্র পৃথিবীর ত্রাণকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করা ইসলামের তাওহিদি বিশ্বাসের পরিপন্থী।

তাঁরা আরও বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যের ধর্মীয়, সামাজিক ও জাতীয় প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের অসতর্ক বা বিতর্কিত মন্তব্য জনপরিসরে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে এবং বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের অনুভূতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রসঙ্গ তুলে বিবৃতিতে বলা হয়, প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীর নিজস্ব বিশ্বাস অনুযায়ী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার রয়েছে। ইসলামও অন্য ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিক্ষা দেয়। তবে অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে গিয়ে নিজ ধর্মের মৌলিক আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বক্তব্য দেওয়া বা তাতে সমর্থন জানানো সমীচীন নয় বলে মনে করেন হেফাজত নেতারা।

বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাতন্ত্র্য ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখাই প্রকৃত ধর্মীয় সম্প্রীতির ভিত্তি। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যে আরও সচেতন ও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন।

বিবৃতির শেষে রাষ্ট্রপতিকে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য প্রত্যাহার করে এর যথাযথ ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হলে ইসলামী মূল্যবোধ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রশ্নে আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানেরা প্রতিবাদে সোচ্চার হতে বাধ্য হবেন বলে সতর্ক করেন সংগঠনটির নেতারা।

ট্যাগ : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতির বক্তব্য প্রত্যাহার

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্বশীলদের বক্তব্যে সতর্কতা জরুরি: হেফাজতে ইসলাম

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির নেতাদের দাবি, বক্তব্যটি ইসলামের মৌলিক তাওহিদি বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে। এ পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতিকে বক্তব্যটি প্রত্যাহার করে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানান হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির বক্তব্যে বিশেষ দায়িত্বশীলতা ও সতর্কতা থাকা প্রয়োজন। ইসলামের মৌলিক আকিদা অনুযায়ী, মহান আল্লাহ তাআলাই সমগ্র বিশ্বজগতের একমাত্র স্রষ্টা, পালনকর্তা ও রক্ষাকর্তা। তাঁদের মতে, কোনো দেব-দেবীকে সমগ্র পৃথিবীর ত্রাণকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করা ইসলামের তাওহিদি বিশ্বাসের পরিপন্থী।

তাঁরা আরও বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যের ধর্মীয়, সামাজিক ও জাতীয় প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের অসতর্ক বা বিতর্কিত মন্তব্য জনপরিসরে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে এবং বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের অনুভূতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রসঙ্গ তুলে বিবৃতিতে বলা হয়, প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীর নিজস্ব বিশ্বাস অনুযায়ী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার রয়েছে। ইসলামও অন্য ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিক্ষা দেয়। তবে অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে গিয়ে নিজ ধর্মের মৌলিক আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বক্তব্য দেওয়া বা তাতে সমর্থন জানানো সমীচীন নয় বলে মনে করেন হেফাজত নেতারা।

বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাতন্ত্র্য ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখাই প্রকৃত ধর্মীয় সম্প্রীতির ভিত্তি। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যে আরও সচেতন ও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন।

বিবৃতির শেষে রাষ্ট্রপতিকে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য প্রত্যাহার করে এর যথাযথ ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হলে ইসলামী মূল্যবোধ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রশ্নে আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মুসলমানেরা প্রতিবাদে সোচ্চার হতে বাধ্য হবেন বলে সতর্ক করেন সংগঠনটির নেতারা।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ