বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করায় শাস্তির মুখে পড়েছেন মিশরের তিন কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়। মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসানকে তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। দলের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো পাঁচ ম্যাচ এবং পরিচালক ইব্রাহিম হাসান তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন বলে জানিয়েছে মিশরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)।
ম্যাচের পর রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ৬০ বছর বয়সী কোচ হোসাম হাসান। অন্যদিকে, খেলা শেষে সাক্ষাৎকারে রেফারিকে অপমান করার অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন মোস্তফা জিকো।
শেষ ষোলোর ম্যাচে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। কিন্তু শেষ দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ গোলের জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা এবং কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়। ম্যাচের কয়েকটি রেফারি সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশরীয় দলের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
ম্যাচের ৫৮ মিনিটে মোস্তফা জিকোর করা একটি গোল বাতিল করেন রেফারি। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনায় দেখা যায়, গোলের আগে আক্রমণ গড়ে তোলার সময় মিশরের একজন খেলোয়াড় ফাউল করেছিলেন।
এ ছাড়া খেলার শেষ দিকে হামদি ফাথির ওপর ফাউল করা হয়েছে দাবি করে পেনাল্টির আবেদন জানায় মিশর। তবে রেফারি সেই আবেদনে সাড়া দেননি। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে গোল করে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ফিফার রেফারিবিষয়ক প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা রেফারির অবস্থানের পক্ষে কথা বলেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের অভিযোগ রেফারি ও তাঁদের পরিবারের জন্য হুমকির পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
এক বিবৃতিতে ইএফএ জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত কারণ জানতে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির কাছে আবেদন করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে আপিলের সুযোগ রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করবে সংস্থাটি।
নিষেধাজ্ঞার কারণে মিশরের আসন্ন আন্তর্জাতিক সূচিতেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। আগামী নভেম্বরে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের বাছাইপর্বে মালাউইয়ের বিপক্ষে ম্যাচগুলোতে কোচ হোসাম হাসান ও পরিচালক ইব্রাহিম হাসানকে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতির প্রথম ম্যাচেও তাঁদের অনুপস্থিত থাকার আশঙ্কা আছে।
অন্যদিকে, পাঁচ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো জুন মাস পর্যন্ত মাঠের বাইরে থাকবেন।
মন্তব্যসমূহ