যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) আসন্ন নীতিনির্ধারণী বৈঠককে ঘিরে সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি থেকে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কাও স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্বর্ণের পাশাপাশি প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও কমেছে। তবে সামান্য বেড়েছে রুপার দর। এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট স্বর্ণের দাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২০ ডলার ৪৯ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্যও একই হারে কমেছে। এতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম হয়েছে ৪ হাজার ১৩৯ ডলার ১০ সেন্ট।
বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকলে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।
স্বর্ণের বিপরীতে মঙ্গলবার স্পট রুপার দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৭ ডলার ১৯ সেন্ট হয়েছে। অন্যদিকে প্লাটিনামের দাম ০.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৩৯ ডলার ৪৫ সেন্টে নেমেছে। প্যালাডিয়ামের দামও ০.৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১১০ ডলার ৬ সেন্ট হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতনের মধ্যেও বাংলাদেশের বাজারে নির্ধারিত স্বর্ণ ও রুপার দাম রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ক্যারেট অনুযায়ী।
বর্তমানে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা। ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬৭ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি মূল্য ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকা।
রুপার ক্ষেত্রে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ৪ হাজার ১৯৯ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম ৩ হাজার ৪৪১ টাকা। সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি নির্ধারিত মূল্য ২ হাজার ৬২৪ টাকা।
সূত্র: রয়টার্স।
মন্তব্যসমূহ