বাংলাদেশে ধর্ম ও জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেছেন, দেশের সব ধর্মের মানুষ ও বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা মিলেমিশে বসবাস করছেন। কাউকে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের আহাম্মদপুরে শ্রীশ্রী দুর্গামন্দিরে আয়োজিত বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, বস্ত্র বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত পূণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না। এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। ধর্ম কিংবা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি সাম্য ও সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর মানুষ একই আকাশের নিচে, একই ছাতার নিচে বসবাস করছে। এখানে ধর্মীয় কিংবা জাতিগত কোনো ভেদাভেদ নেই।’
বক্তব্যে বিগত সরকারের শাসনামল নিয়ে সমালোচনা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছর স্বৈরাচার সরকার আমাদেরকে ঘর থেকে বের হতে দেয়নি। কোনো পূজা মণ্ডপে আমরা যেতে পারিনি। এমনকি আমরা কবর জিয়ারত করতে গেলেও পুলিশ বাহিনী দিয়ে আমাদেরকে ঘিরে রেখেছিল। স্বৈরাচার সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় খুন, গুম সহ এমন কোনো এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তারা করেন। তাদের শাসন আমলে বাংলাদেশের কোনো মানুষ নিরাপদ ছিল না।’
শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন প্রসঙ্গে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে উৎসব পালন করতে পারেন, সে জন্য সরকার সারা দেশে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া এবারের দুর্গাপূজায় সরকার স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ আর্থিক অনুদান দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটের সাবেক অধ্যাপক ডা. মানস রঞ্জন চক্রবর্তী, মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা, খিদিরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল ফজল, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মানিক মাস্টার, পূজামণ্ডপের সভাপতি তাপস রঞ্জন চক্রবর্তী এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. নারায়ণ চক্রবর্তীসহ অন্যরা।
মন্তব্যসমূহ