ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বিশ্বজিৎ হ'ত্যা: আপিল বিভাগে দ্রুত শুনানি করতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন

বিশ্বজিৎ হ'ত্যা: আপিল বিভাগে দ্রুত শুনানি করতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

রাজধানীর পুরান ঢাকার দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার আপিল দ্রুত শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের ডাকা অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে বিশ্বজিৎ দাসকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ছাত্রলীগের ২১ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার চার নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবিএম নিজামুল হক ঐতিহাসিক এক রায়ে ৮ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পরবর্তীতে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিলের দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ৮ জনের মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয় এবং চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয়। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত দুজনকে এবং বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন পাওয়া দুজনের মধ্যে দুজনকে খালাস দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের ওই রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয় রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদারের। মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পান সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিঞা টিপু। অন্যদিকে মৃত্যুদণ্ড হ্রাস পেয়ে যাবজ্জীবন পান মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক এমদাদ, জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন ও মীর মো. নূরে আলম লিমন। বিচারিক আদালতের যাবজ্জীবন থেকে খালাস পেয়েছিলেন এএইচএম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফা। এছাড়া আপিল না করায় বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত পলাতক বাকি ১১ আসামির কারাদণ্ড তখন বহাল থাকে। দীর্ঘদিন ধরে এই মামলার চূড়ান্ত আপিল শুনানি স্থগিত ও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকায়, রাষ্ট্রপক্ষ এবার দ্রুততম সময়ে শুনানির উদ্যোগ গ্রহণ করল।

ট্যাগ : বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলা অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


বিশ্বজিৎ হ'ত্যা: আপিল বিভাগে দ্রুত শুনানি করতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাজধানীর পুরান ঢাকার দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার আপিল দ্রুত শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য আপিল বিভাগে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের ডাকা অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে বিশ্বজিৎ দাসকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ছাত্রলীগের ২১ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার চার নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবিএম নিজামুল হক ঐতিহাসিক এক রায়ে ৮ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পরবর্তীতে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিলের দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ৮ জনের মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয় এবং চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করা হয়। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত দুজনকে এবং বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন পাওয়া দুজনের মধ্যে দুজনকে খালাস দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের ওই রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয় রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদারের। মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পান সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিঞা টিপু। অন্যদিকে মৃত্যুদণ্ড হ্রাস পেয়ে যাবজ্জীবন পান মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক এমদাদ, জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন ও মীর মো. নূরে আলম লিমন। বিচারিক আদালতের যাবজ্জীবন থেকে খালাস পেয়েছিলেন এএইচএম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফা। এছাড়া আপিল না করায় বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত পলাতক বাকি ১১ আসামির কারাদণ্ড তখন বহাল থাকে। দীর্ঘদিন ধরে এই মামলার চূড়ান্ত আপিল শুনানি স্থগিত ও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকায়, রাষ্ট্রপক্ষ এবার দ্রুততম সময়ে শুনানির উদ্যোগ গ্রহণ করল।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ