ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে দলমত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করেছে উল্লেখ করে আগামী দিনে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়েও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর মহাখালী ও গুলশান-বনানী পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এই বার্তা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধের ময়দানে কে কোন ধর্মের মানুষ, তা বিবেচনা না করে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই একাত্ম হয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। একইভাবে স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করতে রাজপথে নেমে এসেছে এবং সেখানেও ধর্মীয় ভেদাভেদ কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তেও ধর্ম-বর্ণ ভুলে ছাত্র-জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন সফল করেছিল।

নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠনের রূপরেখা তুলে ধরে তারেক রহমান স্পষ্ট করেন, দেশ স্বাধীন কিংবা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মতো আগামী দিনের দেশ গড়ার সংগ্রামেও কোনো ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না; বরং বিবেচনা করা হবে কে এই দেশের নাগরিক। তিনি বলেন, প্রত্যেকের সবচেয়ে বড় ও অভিন্ন পরিচয় হলো সবাই এ দেশের মানুষ এবং রাষ্ট্রের ওপর প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার সম্পূর্ণ সমান। এই অধিকার নিশ্চিত করতে হলে সব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধরে রেখে আগামী হাজার বছরও যেন সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে পাশাপাশি বসবাস করতে পারে, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে মহাখালী রক্ষাকালী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দসহ উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর তিনি বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে পূজারি ও ভক্তদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে দলমত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করেছে উল্লেখ করে আগামী দিনে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়েও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর মহাখালী ও গুলশান-বনানী পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এই বার্তা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধের ময়দানে কে কোন ধর্মের মানুষ, তা বিবেচনা না করে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই একাত্ম হয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। একইভাবে স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করতে রাজপথে নেমে এসেছে এবং সেখানেও ধর্মীয় ভেদাভেদ কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তেও ধর্ম-বর্ণ ভুলে ছাত্র-জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন সফল করেছিল।

নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠনের রূপরেখা তুলে ধরে তারেক রহমান স্পষ্ট করেন, দেশ স্বাধীন কিংবা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মতো আগামী দিনের দেশ গড়ার সংগ্রামেও কোনো ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না; বরং বিবেচনা করা হবে কে এই দেশের নাগরিক। তিনি বলেন, প্রত্যেকের সবচেয়ে বড় ও অভিন্ন পরিচয় হলো সবাই এ দেশের মানুষ এবং রাষ্ট্রের ওপর প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার সম্পূর্ণ সমান। এই অধিকার নিশ্চিত করতে হলে সব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধরে রেখে আগামী হাজার বছরও যেন সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে পাশাপাশি বসবাস করতে পারে, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে মহাখালী রক্ষাকালী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান এবং পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দসহ উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর তিনি বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে পূজারি ও ভক্তদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ