ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ফ্রান্সের স'হিংস বি'ক্ষোভের জন্য অভিবাসনকে দায়ী করলেন ট্রাম্প

ফ্রান্সের স'হিংস বি'ক্ষোভের জন্য অভিবাসনকে দায়ী করলেন ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র সহিংস বিক্ষোভ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ব্যাপক অভিবাসনকে দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। যদিও ফ্রান্সে চলমান এই আন্দোলনের মূল প্রেক্ষাপট ও বিক্ষোভকারীদের দাবির সঙ্গে অভিবাসনসংক্রান্ত কোনো বিষয়ের সরাসরি সংযোগ পাওয়া যায়নি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ভাঙচুর, ব্যারিকেডে অগ্নিসংযোগ, দোকানপাটে লুটপাট এবং ঐতিহাসিক ও সরকারি ভবনে ব্যাপক নাশকতার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাম্প। ফ্রান্সের বিদ্যমান পরিস্থিতিকে তুলে ধরে তিনি লেখেন, “ফ্রান্স জ্বলছে! সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বিশ্বের মানুষ—যাদের অন্তরে ঘৃণা রয়েছে, তাদের অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন একসময়ের মহান এই দেশটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই নিজেদের সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করুন এবং দ্রুত পরিস্থিতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিন।”

তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। ফ্রান্সে বর্তমান এই অস্থিরতার মূল সূচনা ঘটেছিল শ্রেণিকক্ষের করুণ দশা, শিক্ষক সংকট এবং মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। পরবর্তীতে সেই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিভিন্ন শীর্ষ ট্রেড ইউনিয়ন ও সাধারণ জনগণ, যা তীব্র মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী বৃহত্তর রূপ নেয়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার এবং শ্রমিক সংগঠন সিজিটি-এর দাবি অনুযায়ী প্রায় ৮ লাখ মানুষ এই বিক্ষোভে রাজপথে নামেন। পুরো আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের প্রাথমিক দাবি ছিল দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জনসেবার অধিকার রক্ষা—অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ নয়।

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে অভিযান পরিচালনা করে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৮০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ফরাসি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ এক্সে নিশ্চিত করেছেন, সহিংসতা ও নাশকতার কেন্দ্রবিন্দু রাজধানী প্যারিস থেকেই সর্বোচ্চ ৮৫৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ফ্রান্সের চলমান সংকটকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি মন্তব্য করেন, পশ্চিমা উদারপন্থিরা বৈচিত্র্য ও সহমর্মিতার নামে ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে তৃতীয় বিশ্বের মানুষদের পুনর্বাসন করেছে; কিন্তু তারা এসব মানুষের স্থানীয় সমাজে মানিয়ে নেওয়া এবং সংস্কৃতির মৌলিক মেলবন্ধনের মতো স্পর্শকাতর প্রশ্নগুলো সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে। কোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা পুরোপুরি পুড়ে ছাই হওয়ার আগেই ফ্রান্স এই অস্থিরতা থামাতে সক্ষম হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সূত্র: ট্রুথ সোশ্যাল

ট্যাগ : ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্স বিক্ষোভ ২০২৬

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


ফ্রান্সের স'হিংস বি'ক্ষোভের জন্য অভিবাসনকে দায়ী করলেন ট্রাম্প

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র সহিংস বিক্ষোভ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ব্যাপক অভিবাসনকে দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। যদিও ফ্রান্সে চলমান এই আন্দোলনের মূল প্রেক্ষাপট ও বিক্ষোভকারীদের দাবির সঙ্গে অভিবাসনসংক্রান্ত কোনো বিষয়ের সরাসরি সংযোগ পাওয়া যায়নি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ভাঙচুর, ব্যারিকেডে অগ্নিসংযোগ, দোকানপাটে লুটপাট এবং ঐতিহাসিক ও সরকারি ভবনে ব্যাপক নাশকতার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাম্প। ফ্রান্সের বিদ্যমান পরিস্থিতিকে তুলে ধরে তিনি লেখেন, “ফ্রান্স জ্বলছে! সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বিশ্বের মানুষ—যাদের অন্তরে ঘৃণা রয়েছে, তাদের অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন একসময়ের মহান এই দেশটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই নিজেদের সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করুন এবং দ্রুত পরিস্থিতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিন।”

তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। ফ্রান্সে বর্তমান এই অস্থিরতার মূল সূচনা ঘটেছিল শ্রেণিকক্ষের করুণ দশা, শিক্ষক সংকট এবং মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। পরবর্তীতে সেই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিভিন্ন শীর্ষ ট্রেড ইউনিয়ন ও সাধারণ জনগণ, যা তীব্র মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী বৃহত্তর রূপ নেয়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার এবং শ্রমিক সংগঠন সিজিটি-এর দাবি অনুযায়ী প্রায় ৮ লাখ মানুষ এই বিক্ষোভে রাজপথে নামেন। পুরো আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের প্রাথমিক দাবি ছিল দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জনসেবার অধিকার রক্ষা—অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ নয়।

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে অভিযান পরিচালনা করে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৮০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ফরাসি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ এক্সে নিশ্চিত করেছেন, সহিংসতা ও নাশকতার কেন্দ্রবিন্দু রাজধানী প্যারিস থেকেই সর্বোচ্চ ৮৫৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ফ্রান্সের চলমান সংকটকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি মন্তব্য করেন, পশ্চিমা উদারপন্থিরা বৈচিত্র্য ও সহমর্মিতার নামে ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে তৃতীয় বিশ্বের মানুষদের পুনর্বাসন করেছে; কিন্তু তারা এসব মানুষের স্থানীয় সমাজে মানিয়ে নেওয়া এবং সংস্কৃতির মৌলিক মেলবন্ধনের মতো স্পর্শকাতর প্রশ্নগুলো সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছে। কোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা পুরোপুরি পুড়ে ছাই হওয়ার আগেই ফ্রান্স এই অস্থিরতা থামাতে সক্ষম হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সূত্র: ট্রুথ সোশ্যাল


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ