বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের বহির্বিভাগের একটি অপারেশন থিয়েটারে বিকট বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে মাইনর চক্ষু অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও দামি চিকিৎসা সরঞ্জাম সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় এ ঘটনায় কোনো রোগী বা স্বাস্থ্যকর্মী হতাহত হননি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের বহির্বিভাগ ভবনের ১৫১ নম্বর কক্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাতে বহির্বিভাগের ১৫১ নম্বর ওই কক্ষে হঠাৎ বিকট শব্দে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই কক্ষের ভেতরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে এবং পুরো কক্ষে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। শব্দ শুনে হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মী ও উপস্থিত কর্মচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ফায়ার সার্ভিসের জন্য অপেক্ষা না করে তারা হাসপাতালের ভেতরে থাকা নিজস্ব অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (ফায়ার এক্সটিঙ্গুইশার) ব্যবহার করে তৎপরতার সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে চক্ষু অপারেশনের জন্য ব্যবহৃত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসাসামগ্রী পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ জানতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও কেউ সাড়া দেননি।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী অগ্নিকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চক্ষু বিভাগের মাইনর অপারেশন থিয়েটারে আকস্মিক আগুনে কিছু চিকিৎসাসামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ঘটনাটি বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট বা এসির কোনো ত্রুটি থেকে ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্যসমূহ