ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

শারদীয় দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা আজ

শারদীয় দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা আজ
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার সবচেয়ে মহিমান্বিত ও গুরুত্বপূর্ণ দিন মহাঅষ্টমী আজ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভোর থেকেই চণ্ডীপাঠ, কল্পারম্ভ এবং বিহিতপূজার আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় আচারের মধ্য দিয়ে সারা দেশের মণ্ডপে মণ্ডপে শুরু হয়েছে দেবী মহামায়ার বিশেষ আরাধনা।

মহাঅষ্টমীর মূল ও অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ‘কুমারী পূজা’। নারীজাতি ও মাতৃশক্তির প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে আজ কুমারী কন্যাকে দেবী দুর্গার জীবন্ত রূপ হিসেবে কল্পনা করে পূজা-অর্চনা করছেন ভক্তরা।

রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে সকাল থেকেই মহাঅষ্টমীর বিশেষ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা চলছে। সেখানে সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজা। সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, এক থেকে ১৬ বছর বয়সী যেকোনো নিষ্পাপ কুমারী কন্যাকে মাতৃরূপে সাজিয়ে দেবী দুর্গার প্রতীক হিসেবে বেদিতে বসিয়ে পূজা করা হয়।

সনাতন শাস্ত্র অনুযায়ী, কুমারী কন্যার শুদ্ধ অন্তরের মধ্যে জগৎমাতার দিব্য রূপ কল্পনা করে অঞ্জলি দেওয়া হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই ধরণীর প্রতিটি নারীর মধ্যেই সুপ্ত রয়েছে দেবী মহামায়ার মহাশক্তি। মূলত সমাজে নারীর প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন, সুরক্ষা এবং নারীশক্তির ইতিবাচক বিকাশকে সম্মান জানানোই কুমারী পূজার অন্তর্নিহিত আধ্যাত্মিক শিক্ষা।

মহাঅষ্টমীর আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ ও অলৌকিক আচার হলো ‘সন্ধিপূজা’। মূলত অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমী তিথির সূচনার প্রথম ২৪ মিনিট—এই বিশেষ ক্ষণকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয় সন্ধিপূজা। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, এই বিশেষ সন্ধিক্ষণেই অসুর চণ্ড ও মুণ্ডকে বিনাশ করতে দেবী দুর্গা তাঁর অত্যন্ত সংহারক চামুণ্ডা রূপ ধারণ করেছিলেন। সেই পৌরাণিক ঘটনাকে স্মরণ করে একযোগে ১০৮টি প্রদীপ জ্বালিয়ে ও ১০৮টি পদ্ম নিবেদন করে দেবীর চরণে বিশেষ প্রার্থনা জানানো হয়।

বিহিতপূজা ও সন্ধিপূজা শেষে হাজার হাজার ভক্ত-পুণ্যার্থী উপবাস ভঙ্গ করে ফুল, বেলপাতা ও চন্দন হাতে পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেবীর চরণে অঞ্জলি দেবেন। এরপর কুমারী দেবীর চরণস্পর্শ করে আশীর্বাদ গ্রহণ করবেন সমবেত ভক্তরা। দিনটি উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মণ্ডপগুলোতে পূজা শেষে ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ট্যাগ : শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ মহাঅষ্টমী কুমারী পূজা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


শারদীয় দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা আজ

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার সবচেয়ে মহিমান্বিত ও গুরুত্বপূর্ণ দিন মহাঅষ্টমী আজ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভোর থেকেই চণ্ডীপাঠ, কল্পারম্ভ এবং বিহিতপূজার আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় আচারের মধ্য দিয়ে সারা দেশের মণ্ডপে মণ্ডপে শুরু হয়েছে দেবী মহামায়ার বিশেষ আরাধনা।

মহাঅষ্টমীর মূল ও অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ‘কুমারী পূজা’। নারীজাতি ও মাতৃশক্তির প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে আজ কুমারী কন্যাকে দেবী দুর্গার জীবন্ত রূপ হিসেবে কল্পনা করে পূজা-অর্চনা করছেন ভক্তরা।

রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে সকাল থেকেই মহাঅষ্টমীর বিশেষ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা চলছে। সেখানে সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজা। সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, এক থেকে ১৬ বছর বয়সী যেকোনো নিষ্পাপ কুমারী কন্যাকে মাতৃরূপে সাজিয়ে দেবী দুর্গার প্রতীক হিসেবে বেদিতে বসিয়ে পূজা করা হয়।

সনাতন শাস্ত্র অনুযায়ী, কুমারী কন্যার শুদ্ধ অন্তরের মধ্যে জগৎমাতার দিব্য রূপ কল্পনা করে অঞ্জলি দেওয়া হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই ধরণীর প্রতিটি নারীর মধ্যেই সুপ্ত রয়েছে দেবী মহামায়ার মহাশক্তি। মূলত সমাজে নারীর প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন, সুরক্ষা এবং নারীশক্তির ইতিবাচক বিকাশকে সম্মান জানানোই কুমারী পূজার অন্তর্নিহিত আধ্যাত্মিক শিক্ষা।

মহাঅষ্টমীর আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ ও অলৌকিক আচার হলো ‘সন্ধিপূজা’। মূলত অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমী তিথির সূচনার প্রথম ২৪ মিনিট—এই বিশেষ ক্ষণকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয় সন্ধিপূজা। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, এই বিশেষ সন্ধিক্ষণেই অসুর চণ্ড ও মুণ্ডকে বিনাশ করতে দেবী দুর্গা তাঁর অত্যন্ত সংহারক চামুণ্ডা রূপ ধারণ করেছিলেন। সেই পৌরাণিক ঘটনাকে স্মরণ করে একযোগে ১০৮টি প্রদীপ জ্বালিয়ে ও ১০৮টি পদ্ম নিবেদন করে দেবীর চরণে বিশেষ প্রার্থনা জানানো হয়।

বিহিতপূজা ও সন্ধিপূজা শেষে হাজার হাজার ভক্ত-পুণ্যার্থী উপবাস ভঙ্গ করে ফুল, বেলপাতা ও চন্দন হাতে পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেবীর চরণে অঞ্জলি দেবেন। এরপর কুমারী দেবীর চরণস্পর্শ করে আশীর্বাদ গ্রহণ করবেন সমবেত ভক্তরা। দিনটি উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মণ্ডপগুলোতে পূজা শেষে ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ