বান্দরবানে পর্যটনশিল্পের সম্প্রসারণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হোটেল ও রিসোর্ট। তবে নতুন স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশগত নিয়মনীতি অনুসরণ, পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবানে এখন পর্যন্ত ৭৯টি হোটেল ও রিসোর্ট অনুমোদন নিয়েছে। অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাবে, জেলার ৩২টি রিসোর্টের পরিবেশগত অনুমোদন রয়েছে।
তবে এই দুই হিসাবের পার্থক্য থেকেই বাকি সব প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়া চলছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। কারণ, নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতার নিচে থাকা রিসোর্টের জন্য পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণের বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
বান্দরবান শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে কানাপাড়া এলাকায়ও রিসোর্ট নির্মাণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ওই এলাকার দুই কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় চারটি রিসোর্ট গড়ে উঠেছে।
পর্যটনকেন্দ্রিক এসব স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রচলিত নিয়মনীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নুর হাসান সজীব জানিয়েছেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী ২০ শয্যার কম ধারণক্ষমতার রিসোর্ট পরিচালনার জন্য পরিবেশগত অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
তবে যেসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রয়োজন, সেগুলো অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে উঠলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষ করে পাহাড় কাটা, গাছপালা ধ্বংস, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পানির উৎস দূষণের মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। এতে স্থানীয় জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
তবে বান্দরবানের নির্দিষ্ট কোনো হোটেল বা রিসোর্ট পরিবেশের ক্ষতি করছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সরেজমিন পরিদর্শন ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন প্রয়োজন।
পর্যটন খাতের বিকাশ স্থানীয় অর্থনীতির জন্য সম্ভাবনা তৈরি করলেও উন্নয়ন কার্যক্রমে পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, রিসোর্টগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন যাচাই, নিয়মিত পরিবেশগত তদারকি এবং পরিকল্পিত নির্মাণ নিশ্চিত করা গেলে পর্যটনশিল্পের উন্নয়নের পাশাপাশি পাহাড়ের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
মন্তব্যসমূহ