লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১২ জন ভারতীয় নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির কড়া প্রতিরোধ ও স্থানীয় গ্রামবাসীর যৌথ বাধার মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ভোরে পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত বামনদল সীমান্তের ওপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ মহকুমার বিএসবাড়ি সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৮৩৮-এর ১ নম্বর সাব-পিলারের মাঝামাঝি এলাকা দিয়ে রোববার ভোররাতে ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বিএসবাড়ি ক্যাম্পের সদস্যরা ১২ জন ভারতীয় নাগরিককে জোর করে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) অপচেষ্টা চালায়। পুশইনের শিকার এই দলে আটজন পুরুষ, দুজন নারী এবং দুটি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু রয়েছে।
ভোরবেলা বিএসএফের এই অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতা স্থানীয় বাংলাদেশিদের নজরে এলে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে অবহিত করেন এবং নিজেরাও সীমান্তে অবস্থান নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন। খবর পেয়ে বুড়িমারী বিজিবি ক্যাম্পের টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শক্ত অবস্থান নেয় এবং বিএসএফকে কড়া বাধা দেয়। বিজিবি ও স্থানীয় জনতার অবিচল প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটে ওই ১২ জনকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিরা আন্তর্জাতিক শূন্যরেখা থেকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন।
অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং সীমান্ত পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিজিবির টহল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বিত নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ৬১ বিজিবি তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহা. শাহীনুল ইসলাম (পিএসসি, ইঞ্জিনিয়ার্স) গণমাধ্যমকে জানান, বিএসএফের এই বেআইনি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিজিবির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ঘটনার আনুষ্ঠানিক নিষ্পত্তির জন্য বিএসএফকে জরুরি পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষিত ও অনুপ্রবেশমুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
মন্তব্যসমূহ