বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে পুঁতে রাখা নৌমাইনে আঘাত লেগে দুটি তেলবাহী বিশালাকার জাহাজে (ট্যাংকার) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার চলমান বহুমুখী সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই অত্যন্ত স্পর্শকাতর এ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ নতুন করে তীব্র রূপ নিল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ (IRNA)-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ দুটির প্রতিটিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে মোট প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ছিল। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, নৌমাইনের সংস্পর্শে আসার পরপরই প্রথম জাহাজটিতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং লেলিহান আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে দ্বিতীয় জাহাজটিও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ দুটির আনুষ্ঠানিক নাম, মালিকানা কিংবা সেগুলোতে বহন করা তেলের সুনির্দিষ্ট উৎস তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এ ছাড়া সত্যিই এগুলো নৌমাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
আইআরএনএ দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন লঙ্ঘন করে জাহাজ দুটি নিজেদের স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং, অবস্থান শনাক্তকরণ এবং রাডার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছিল। একই সঙ্গে তারা ইরানের নির্ধারিত চ্যানেল এড়িয়ে অননুমোদিত বিকল্প পথ ব্যবহার করে প্রণালিটি অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। আইআরজিসির পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ তোলা হয়, এর মধ্যে একটি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সহায়তায় হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টায় ছিল এবং অন্যটি বিস্ফোরণের পর সাগরে চলাচলের সক্ষমতা সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলে। তবে এসব দাবির বিষয়ে ওয়াশিংটনের কোনো মন্তব্য বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সরাসরি সংঘাত শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নজরদারি ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ বহুগুণ বৃদ্ধি করে তেহরান। এ পথ দিয়ে চলাচলের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে ইরানের পূর্বানুমতি নেওয়ার নিয়ম জারি করা হয়। বৈশ্বিক সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হতো।
চলতি সপ্তাহেই আইআরজিসির নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী আজমায়ি প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যেসব বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজ হরমুজ অতিক্রমের সময় নেভিগেশন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রাখবে, সেগুলোকে সরাসরি ‘শত্রুভাবাপন্ন’ হিসেবে গণ্য করা হবে। অন্যদিকে ইরানের তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করতে জলপথে পালটা কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র, যার ফলে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা ক্রমাগত বাড়ছে।
সূত্র: সামা টিভি
মন্তব্যসমূহ