কলকাতার উত্তরাঞ্চলের চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির পূজামণ্ডপে সপ্তমীর সন্ধ্যায় দর্শনার্থীদের প্রচণ্ড ভিড়কে কেন্দ্র করে বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রবল বৃষ্টির মধ্যে হুড়োহুড়িতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে ২৫ জনকে নিয়ে আসার খবর পাওয়া গেলেও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে এখনো সরকারি কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রের খবর, সপ্তমীর সন্ধ্যায় প্রতিমা দর্শনের জন্য চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির মণ্ডপে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে দর্শনার্থীদের সারিতে চাপ বাড়তে থাকে। লাইনে থাকা কয়েকজনের দাবি, পেছন থেকে প্রবল চাপ তৈরি হওয়ায় সামনের দিকে থাকা অনেকে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। এতে পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আহতদের দ্রুত বের করে আনতে স্থানীয়রা মণ্ডপের পেছনের গেট ভেঙে দেন বলে জানা গেছে। পরে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রের দাবি, আহতের সংখ্যা ২৫। তাদের মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মৃত্যুর এই সংখ্যা সরকারি পর্যায়ে নিশ্চিত করা হয়নি। আহতদের মধ্যে কতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও হাসপাতালে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সচল রাখতে সব চিকিৎসকের ছুটি বাতিল করে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে দমকল বিভাগ। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির পূজামণ্ডপ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বছরের দুর্গাপূজায় চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির মণ্ডপের থিম ছিল ‘অরব’, যার ইংরেজি তর্জমা ‘বিয়ন্ড সাউন্ড’। শব্দের পরিচিত সীমা পেরিয়ে নীরবতার গভীরে পৌঁছানোর ভাবনা তুলে ধরেছিল এই আয়োজন। মণ্ডপটি ৩৬০ ডিগ্রির বিশেষ পরিকল্পনায় তৈরি করা হয়েছিল। থিমের অভিনবত্বের কারণে প্রতিমা দর্শনে সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে।
তবে ঠিক কী কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না এবং দুর্ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ও হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
মন্তব্যসমূহ