ত্রিদেশীয় সিরিজে ফাইনালে ওঠার চাপ এবং রানরেটের হিসাবকে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক লিটন দাস। তবে দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও খেলোয়াড়দের পরিপক্বতায় আস্থা রেখে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভালো ক্রিকেট খেলার প্রত্যাশা জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার থেকে আবুধাবিতে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ। উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে।
ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ডও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। এখন পর্যন্ত ছয়টি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলে মাত্র একবার শিরোপা জিতেছে দলটি। ২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ডকে নিয়ে আয়োজিত সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। এ ছাড়া ২০১৮ সালের নিদহাস ট্রফির ফাইনালে উঠলেও ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ হয় টাইগাররা।
এ ধরনের টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সাফল্য কম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে লিটন বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় কোনো কারণ নাই, আমরা খুব কম ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলি। আমি অনেক দিন ধরে খেললেও ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার অভিজ্ঞতা খুব কম। আমরা বড় বড় টুর্নামেন্ট এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ এসবে খেলি, কিন্তু ত্রিদেশীয় সিরিজ সেভাবে খেলা হয় না। ত্রিদেশীয় সিরিজে বাড়তি একটা চাপ থাকে।’
এই চাপের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘৩ দলের উপরই (চাপ) থাকে– ফাইনালে উঠতে হবে। আমার মনে হয় সেখানে বাড়তি চাপ আসে। (দ্বিপাক্ষিক) সিরিজে আসলে সেভাবে চাপ থাকে না, এক ম্যাচ হারলেও সুযোগ থাকে। তবে ত্রিদেশীয় সিরিজে হেরে গেলে চাপ থাকে, রান রেটের ব্যাপার থাকে। আমাদের ছেলেরা এখন ভালো ক্রিকেট খেলছে। গত কিছু সিরিজে ভালো খেলেছি। ম্যাচুরিটি লেভেলও ভালো আছে। আশা করছি আমরা এখানে ভালো ক্রিকেট খেলব।’
অধিনায়ক হিসেবে নিজের ভূমিকা উপভোগ করার বিষয়েও ইতিবাচক লিটন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি শুরু থেকেই অধিনায়কত্ব উপভোগ করতাম।’
এদিকে সাম্প্রতিক ওয়ানডে সিরিজগুলোতে বাংলাদেশের ব্যাটিং প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বড় সংগ্রহ গড়া কিংবা বড় লক্ষ্য তাড়া করার ক্ষেত্রে ব্যাটারদের দায়িত্বশীল হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন অধিনায়ক। তাঁর ভাষায়, ‘শুরুতে বা পরে ব্যাট করেন রান তো ব্যাটারদেরকেই করতে হবে। তাদেরকে পুরো দায়িত্ব নিয়েই ব্যাটিং করতে হবে।’
লিটন মনে করেন, আগে ব্যাটিং করলে নির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে থাকে না। কিন্তু পরে ব্যাটিংয়ের সময় ৩০০ বা তার বেশি রানের লক্ষ্য তাড়া করতে হলে আক্রমণাত্মক হতে হয়। পাশাপাশি দলের লোয়ার অর্ডার থেকেও অবদান প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
এ বিষয়ে লিটন বলেন, ‘আগে ব্যাট করলে তো কোনো টার্গেট থাকে না। পরে ব্যাট করতে গেলে ৩০০ বা ৩০০+ রান টার্গেট থাকে, তখন একটু আগ্রাসী ব্যাট করতে হয়। আমরা বেশিরভাগ ৬ ব্যাটার নিয়েই খেলি, লোয়ার অর্ডার সেভাবে দলে অবদান রাখতে না পারলে কাজটা একটু কঠিন হয়ে যায়। তবে চেষ্টা করছি সেসব শুধরে নেওয়ার।’
মন্তব্যসমূহ