শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ধর্ম, বর্ণ কিংবা সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক যেন বৈষম্য, বঞ্চনা ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে দেশের সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমঅধিকার এবং নিরাপদ পরিবেশে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। বাণীতে তিনি দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রতিটি ধর্মই মানুষকে সত্য, ন্যায়, সংযম ও মানবকল্যাণের পথ দেখায় এবং অন্যায়-অসত্য থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দেয়। দুর্গাপূজা কেবল একটি উৎসব নয়, এর মূল বাণী হলো অশুভ ও অসুর শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের চিরন্তন প্রতিষ্ঠা। অন্যায় ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে ন্যায় ও মানবতার এই আহ্বান চিরায়ত বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দুর্গোৎসবের মধ্য দিয়ে সব ভেদাভেদ ভুলে জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সমগ্র জনগণের পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হবে।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমান নাগরিক অধিকার সমুন্নত রাখতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয় পরিচালনা, সংস্কার ও সার্বিক উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় সহায়তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরোহিতদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করা হচ্ছে।
তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের সব সংখ্যালঘু ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ যেন সম্পূর্ণ নির্ভয়ে, স্বাধীনভাবে এবং আনন্দঘন পরিবেশে উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্গোৎসবের এই মানবিক আনন্দ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্যসমূহ