ঢাকা    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মাস্কের সঙ্গে দ্বন্দ্বের বিষয়ে মুখ খুলল আম্বানির রিলায়েন্স

মাস্কের সঙ্গে দ্বন্দ্বের বিষয়ে মুখ খুলল আম্বানির রিলায়েন্স
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ভারতে স্যাটেলাইটভিত্তিক দ্রুতগতির ইন্টারনেট পরিষেবা ‘স্টারলিংক’ চালু নিয়ে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ও অভিযোগের মুখে অবশেষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা ইলন মাস্কের স্টারলিংকের সঙ্গে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতাকে পূর্ণ স্বাগত জানায় এবং রিলায়েন্সের নিজস্ব স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাও সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

আম্বানি ভারতে স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুর পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছেন—ইলন মাস্কের এমন লাগাতার অভিযোগের জবাবে এটিই রিলায়েন্সের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া। খবর রয়টার্সের।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক বেশ কিছুদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছিলেন যে, ভারত সরকার ও মুকেশ আম্বানি যোগসাজশ করে ভারতে স্টারলিংকের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক প্রক্রিয়াকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিলম্বিত করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মাস্ক একাধিক আক্রমণাত্মক মন্তব্য করে আম্বানিকে কটাক্ষ করে ‘প্রধানমন্ত্রী আম্বানি’ ও ভারতের ‘প্রকৃত নিয়ন্ত্রক’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন।

শুক্রবার প্রকাশিত বিবৃতিতে সরাসরি মাস্কের নাম উল্লেখ না করে রিলায়েন্স জানিয়েছে, ‘রিলায়েন্স ও ভারতের বাজার নিয়ে বিভিন্ন মহলের বিভ্রান্তিকর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সঠিক তথ্য তুলে ধরতেই এই ব্যাখ্যা।’ বিবৃতিতে আরও জোর দিয়ে বলা হয়, ‘রিলায়েন্স কোনো দিনই বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতাকে ভয় পায়নি।’ মূলত রিলায়েন্সের ডিজিটাল শাখা ‘জিও প্ল্যাটফর্মস’ যখন দেশটির ইতিহাসের বৃহত্তম ১০৮ বিলিয়ন ডলারের আইপিও ছাড়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই এ কৌশলগত বিবৃতি এলো। বর্তমানে ৫৩ কোটিরও বেশি গ্রাহক নিয়ে জিও ভারতের শীর্ষস্থানীয় টেলিকম ও ডেটা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।

এদিকে ভারত সরকার কোনো পক্ষকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় স্টারলিংক, জিও-এর স্যাটেলাইট শাখা এবং ভারতী এয়ারটেল সমর্থিত ‘ইউ টেলস্যাট ওয়ানওয়েব’-কে প্রাথমিক লাইসেন্স প্রদান করলেও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র এখনো কোনো প্রতিষ্ঠানকেই দেয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০০ কোটিরও বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর এই বিশাল বাজারে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট মূলত গ্রামীণ ও দুর্গম জনপদের কোটি কোটি মানুষকে নেটওয়ার্কের আওতায় আনার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবে। মাস্ক ঘোষণা দিয়েছেন, কেনিয়ার মতো ভারতের বাজারেও জিওর সস্তা ডেটা প্যাকেজের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে স্টারলিংকের দাম সাধারণের নাগালের মধ্যেই রাখা হবে।

সূত্র: রয়টার্স 

ট্যাগ : ইলন মাস্ক স্টারলিংক ভারত

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


মাস্কের সঙ্গে দ্বন্দ্বের বিষয়ে মুখ খুলল আম্বানির রিলায়েন্স

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতে স্যাটেলাইটভিত্তিক দ্রুতগতির ইন্টারনেট পরিষেবা ‘স্টারলিংক’ চালু নিয়ে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ও অভিযোগের মুখে অবশেষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা ইলন মাস্কের স্টারলিংকের সঙ্গে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতাকে পূর্ণ স্বাগত জানায় এবং রিলায়েন্সের নিজস্ব স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাও সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

আম্বানি ভারতে স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুর পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছেন—ইলন মাস্কের এমন লাগাতার অভিযোগের জবাবে এটিই রিলায়েন্সের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া। খবর রয়টার্সের।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক বেশ কিছুদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছিলেন যে, ভারত সরকার ও মুকেশ আম্বানি যোগসাজশ করে ভারতে স্টারলিংকের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক প্রক্রিয়াকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিলম্বিত করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মাস্ক একাধিক আক্রমণাত্মক মন্তব্য করে আম্বানিকে কটাক্ষ করে ‘প্রধানমন্ত্রী আম্বানি’ ও ভারতের ‘প্রকৃত নিয়ন্ত্রক’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন।

শুক্রবার প্রকাশিত বিবৃতিতে সরাসরি মাস্কের নাম উল্লেখ না করে রিলায়েন্স জানিয়েছে, ‘রিলায়েন্স ও ভারতের বাজার নিয়ে বিভিন্ন মহলের বিভ্রান্তিকর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সঠিক তথ্য তুলে ধরতেই এই ব্যাখ্যা।’ বিবৃতিতে আরও জোর দিয়ে বলা হয়, ‘রিলায়েন্স কোনো দিনই বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতাকে ভয় পায়নি।’ মূলত রিলায়েন্সের ডিজিটাল শাখা ‘জিও প্ল্যাটফর্মস’ যখন দেশটির ইতিহাসের বৃহত্তম ১০৮ বিলিয়ন ডলারের আইপিও ছাড়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই এ কৌশলগত বিবৃতি এলো। বর্তমানে ৫৩ কোটিরও বেশি গ্রাহক নিয়ে জিও ভারতের শীর্ষস্থানীয় টেলিকম ও ডেটা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।

এদিকে ভারত সরকার কোনো পক্ষকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় স্টারলিংক, জিও-এর স্যাটেলাইট শাখা এবং ভারতী এয়ারটেল সমর্থিত ‘ইউ টেলস্যাট ওয়ানওয়েব’-কে প্রাথমিক লাইসেন্স প্রদান করলেও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র এখনো কোনো প্রতিষ্ঠানকেই দেয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০০ কোটিরও বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর এই বিশাল বাজারে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট মূলত গ্রামীণ ও দুর্গম জনপদের কোটি কোটি মানুষকে নেটওয়ার্কের আওতায় আনার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবে। মাস্ক ঘোষণা দিয়েছেন, কেনিয়ার মতো ভারতের বাজারেও জিওর সস্তা ডেটা প্যাকেজের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে স্টারলিংকের দাম সাধারণের নাগালের মধ্যেই রাখা হবে।

সূত্র: রয়টার্স 


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ