কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় মাদক কারবারিকে ধাওয়া করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করায় ভারতের অভ্যন্তরে আটকা পড়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের দুই সদস্য। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ী সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
আটকে পড়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন ব্রাহ্মণপাড়া থানায় কর্মরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইমরান হোসেন এবং কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান। তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মাধ্যমে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ ও সমন্বয় প্রক্রিয়া চলছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের একটি টহল দল সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে আশাবাড়ী সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত দায়িত্ব পালন ও মাদকবিরোধী তল্লাশি চালাচ্ছিল। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চিহ্নিত এক মাদক কারবারি দ্রুত দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান তাৎক্ষণিকভাবে ওই কারবারির পিছু নেন। ধাওয়ার একপর্যায়ে সীমান্ত পার হয়ে ভারতের অংশে ঢুকে পড়লে স্থানীয় কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক তাঁকে ঘিরে ফেলে এবং আটকে রাখে। খবর পেয়ে ডিউটি পার্টির ইনচার্জ এএসআই ইমরান হোসেন তাঁকে ছাড়িয়ে আনতে সেখানে গেলে তাঁকেও আটকে রাখা হয়।
পরবর্তীতে ভারতীয় নাগরিকরা বিষয়টি বিএসএফকে জানালে বিএসএফ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে এএসআই ইমরান ও কনস্টেবল রোহিতকে নিজেদের হেফাজতে নেন।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে মাদক কারবারিকে ধরতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা সীমান্ত অতিক্রম করে ফেলেন। তাঁদের দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবির সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নের সঙ্গে সমন্বয় করে সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর বিএসএফ তাঁদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্যসমূহ