ঢাকা    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভারতে ১৩ কোটি ভোটার বাদ, তীব্র বিতর্ক ও বিক্ষোভ

এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভারতে ১৩ কোটি ভোটার বাদ, তীব্র বিতর্ক ও বিক্ষোভ
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নাগরিক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এই বিশাল সংখ্যা জাপানের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রায় আট দশকে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বিপুলসংখ্যক বৈধ নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনো নজির ভারতে নেই।

এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের নির্মম শিকার হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার বাসিন্দা সাহিদা ফকির। ১৯৬২ সাল থেকে পরিবারের জমির দলিল, নিজের জন্মনিবন্ধন সনদ, প্যান কার্ড এবং বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের ভোটার তালিকায় থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ দাখিল করা সত্ত্বেও গত এপ্রিলে প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়। এর মাত্র তিন মাসের মাথায় আপিল চলমান থাকা অবস্থায় তাঁকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ আখ্যা দিয়ে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো (পুশ-ইন) হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন সাতক্ষীরার একটি গ্রামে মানবেতর জীবনযাপন করছেন সাহিদা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, সব প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাঁর কোনো আবেদন শোনেনি। এমনকি বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) এক কর্মকর্তা সাহিদার ভারতীয় নথিপত্র যাচাই করে তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্বের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হলে আদালত কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশন এই প্রক্রিয়াকে ভোটার তালিকা ‘পরিশুদ্ধ’ করার নিয়মতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করেছে। তবে বিরোধী দল ও সুশীল সমাজের তীব্র অভিযোগ, এর মাধ্যমে বেছে বেছে মুসলিম, দলিত এবং বিজেপি-বিরোধী ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচনী সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইনে পরিবর্তন এনে সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। বিহারে ৬০ লাখের বেশি ভোটার বাদ পড়ার পর এনডিএ জোটের বিপুল জয় এবং পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ক্ষমতায় এসে ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরির পদক্ষেপকে সেই পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে দেখছেন সমালোচকেরা। ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি একে "মুসলিমদের ভোটাধিকার হরণের পরিকল্পিত জাতীয় প্রক্রিয়া" হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এই প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে তরুণ সমাজের আন্দোলন এখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী দিল্লিতে বিরোধী দলগুলোর মেগা বিক্ষোভ এবং সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে গোটা বিষয়টি এখন মোদি সরকারের সামনে অন্যতম বড় রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংকটে রূপ নিয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ট্যাগ : এসআইআর ভারত ভোটার তালিকা সংশোধন

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভারতে ১৩ কোটি ভোটার বাদ, তীব্র বিতর্ক ও বিক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নাগরিক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এই বিশাল সংখ্যা জাপানের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রায় আট দশকে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বিপুলসংখ্যক বৈধ নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনো নজির ভারতে নেই।

এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের নির্মম শিকার হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার বাসিন্দা সাহিদা ফকির। ১৯৬২ সাল থেকে পরিবারের জমির দলিল, নিজের জন্মনিবন্ধন সনদ, প্যান কার্ড এবং বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের ভোটার তালিকায় থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ দাখিল করা সত্ত্বেও গত এপ্রিলে প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়। এর মাত্র তিন মাসের মাথায় আপিল চলমান থাকা অবস্থায় তাঁকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ আখ্যা দিয়ে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো (পুশ-ইন) হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন সাতক্ষীরার একটি গ্রামে মানবেতর জীবনযাপন করছেন সাহিদা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, সব প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাঁর কোনো আবেদন শোনেনি। এমনকি বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) এক কর্মকর্তা সাহিদার ভারতীয় নথিপত্র যাচাই করে তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্বের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হলে আদালত কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছেন।

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশন এই প্রক্রিয়াকে ভোটার তালিকা ‘পরিশুদ্ধ’ করার নিয়মতান্ত্রিক পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করেছে। তবে বিরোধী দল ও সুশীল সমাজের তীব্র অভিযোগ, এর মাধ্যমে বেছে বেছে মুসলিম, দলিত এবং বিজেপি-বিরোধী ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচনী সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। ২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইনে পরিবর্তন এনে সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। বিহারে ৬০ লাখের বেশি ভোটার বাদ পড়ার পর এনডিএ জোটের বিপুল জয় এবং পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ক্ষমতায় এসে ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরির পদক্ষেপকে সেই পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে দেখছেন সমালোচকেরা। ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি একে "মুসলিমদের ভোটাধিকার হরণের পরিকল্পিত জাতীয় প্রক্রিয়া" হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এই প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে তরুণ সমাজের আন্দোলন এখন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী দিল্লিতে বিরোধী দলগুলোর মেগা বিক্ষোভ এবং সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে গোটা বিষয়টি এখন মোদি সরকারের সামনে অন্যতম বড় রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংকটে রূপ নিয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ