বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চার্চ অব ইংল্যান্ডের ফরেন পলিসি অ্যাডভাইজার ড. চার্লস রীড এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) জাতীয় সংসদ ভবনে ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে এই আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে ব্রিটিশ হাইকমিশনের গভর্ন্যান্স অ্যাডভাইজার শাহনাজ করিম, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইজার তাহেরা জাবীন, এফওআরবি (FoRB) প্রজেক্টের ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর রুহী নাজ এবং সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শশাঙ্ক বরণ রায় উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনাকালে ড. চার্লস রীড এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সম্প্রতি বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে বর্তমান সরকারের গৃহীত কঠোর নিরাপত্তা ও সার্বিক সহায়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁরা উল্লেখ করেন, সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান স্বাধীন ও নিরাপদে পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। এ ধরনের আন্তরিক পদক্ষেপ বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিবেশকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
সাক্ষাতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে একটি ‘ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা বিষয়ক পার্লামেন্টারি ককাস’ গঠনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বাংলাদেশ আবহমানকাল থেকেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ দেশে সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উদযাপিত হয়। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে; এখানে তথাকথিত সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু বলে কোনো কৃত্রিম বিভাজন নেই।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আরও বলেন, সম্প্রীতি ও সহনশীল সমাজ প্রতিষ্ঠায় সংসদ সদস্যদের ভূমিকা অপরিসীম। এ প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদে ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক পার্লামেন্টারি ককাস গঠন নীতি প্রণয়ন ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে। তিনি যোগ করেন, বর্তমান সংসদে সব দলের সংসদ সদস্যদের মুক্ত মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করছে। সরকার এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে প্রতিটি নাগরিক নির্ভয়ে শান্তিতে নিঃশ্বাস নিতে পারবে এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মর্যাদা সুরক্ষিত থাকবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ ধর্মীয় স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা, সুশাসন ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সংসদীয় পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।














মন্তব্যসমূহ