যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় এবং কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ার প্রত্যক্ষ ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ায় বিশ্ববাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো অপরিশোধিত তেলের মূল্যে বড় দরপতন লক্ষ্য করা গেছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) গ্রিনিচ মান সময় রাত ২টা ১১ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৭ সেন্ট বা ১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কমে ৯৩ ডলার ৬৫ সেন্টে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ১৪ সেন্ট বা ১ দশমিক ২৯ শতাংশ কমে ৮৬ ডলার ৯৮ সেন্টে স্থির হয়।
এর আগের কার্যদিবসেও বিশ্ববাজারে তেলের এই দুই শীর্ষ সূচকের দাম ৮ শতাংশের বেশি আকস্মিক কমে গিয়েছিল। ফলে চলতি বছরের আগস্ট মাসের শেষ দিকের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম বর্তমানে সর্বনিম্ন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সরকারগুলোর ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজের দলের শোচনীয় পরাজয়ের কারণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিকভাবে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের শক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে একতরফাভাবে বড় ধরনের কোনো নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের হাত অনেকটাই সংকুচিত হবে। আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, উদ্ভূত অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক সংঘাত এড়িয়ে একটি কার্যকর কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর মার্কিন কংগ্রেসের পক্ষ থেকে চাপ তীব্র হবে। ফলে ইরানের ওপর সর্বাত্মক সামরিক অভিযানের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।
তবে জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকরা সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, সংঘাতের মাত্রা প্রশমিত হলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে বিঘ্নিত হওয়া তেল সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে, যা বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনবে। তবে ভূরাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে এই স্বস্তি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নিয়ে বাজারে এখনও একধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা














মন্তব্যসমূহ