যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টিকে সরাসরি পরাজিত করে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। এই অভাবনীয় বিজয়ের সুবাদে দেশটির ২৪০ বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাসে ‘প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার’ হিসেবে অনন্য ইতিহাস গড়ার চূড়ান্ত দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি (NBC) এক প্রতিবেদনে এ ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রার তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের পরই হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার পদটি ক্ষমতার দিক থেকে রাষ্ট্রের তৃতীয় শীর্ষ পদমর্যাদাসম্পন্ন (রাষ্ট্রপতি উত্তরাধিকার সূত্রে দ্বিতীয় সারির ক্ষমতাধর)। আগামী ৩ জানুয়ারি ২০২৭ নতুন কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অধিবেশন শুরু হলে ৫৬ বছর বয়সি এই ঝানু রাজনীতিবিদ আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকার পদের জন্য ভোটযুদ্ধে নামবেন। নিম্নকক্ষে ডেমোক্র্যাটরা সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় তাঁর স্পিকার নির্বাচিত হওয়া এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতা ও সময়ের ব্যাপার বলেই গণ্য হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) ওয়াশিংটনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে আয়োজিত বিজয় উৎসবে ‘স্পিকার! স্পিকার!’ স্লোগানে বিপুল করতালির মাধ্যমে জেফ্রিসকে বরণ করে নেন কর্মী-সমর্থকেরা। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে দেওয়া আবেগঘন ভাষণে হাকিম জেফ্রিস বলেন, এই অর্জন কোনো একক রাজনৈতিক দলের বিজয় নয়, বরং এটি পুরো আমেরিকার জনগণের এক ঐতিহাসিক বিজয়ের মুহূর্ত। তিনি সাধারণ নাগরিকদের অর্থনৈতিক স্বস্তি ফেরাতে এবং তাদের কাঙ্ক্ষিত ইতিবাচক পরিবর্তন বাস্তবায়নে সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পেশাগত জীবনে ব্রুকলিনের সাবেক আইনজীবী হাকিম জেফ্রিস ২০১৩ সাল থেকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে একনিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমান রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরকে কার্যকর নজরদারির মধ্যে রাখতে পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। ক্ষমতা গ্রহণের আগেই তিনি একটি শক্তিশালী ‘১০০ দিনের এজেন্ডা’ ঘোষণা করেছেন, যার প্রধান লক্ষ্য সাধারণ আমেরিকানদের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমানো, নির্বাহী বিভাগকে কংগ্রেসের কাছে কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন পড়লে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক অভিশংসনের (ইমপিচমেন্ট) মতো সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
উল্লেখ্য, ১৮৭০ সালে জোসেফ রেইনি নামের প্রথম কোনো আফ্রিকান-আমেরিকান আইনপ্রণেতা হিসেবে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে শপথ নিয়েছিলেন। সেই ঐতিহাসিক সূচনার দীর্ঘ দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় পর সব সামাজিক ও রাজনৈতিক বাধা পেরিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের সর্বোচ্চ অভিভাবকের আসনে বসতে চলেছেন হাকিম জেফ্রিস।
সূত্র: এনবিসি নিউজ














মন্তব্যসমূহ