ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
দাঁড়িপাল্লার ১৩ বুথ ভাঙচুর, তীব্র নিন্দা জামায়াত আমিরের বিএনপির প্রার্থী এ্যানি চৌধুরীর গাড়ি থেকে ১৫ লাখ টাকা উদ্ধার, সহকারী আটক রাজধানীতে ভোটারদের টাকা বিতরণ, জামায়াত নেতার কারাদণ্ড বিএনপি কর্মীর বাড়ি লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু গুলি টকশোতে নীতিকথা বলা লোকেরা ভোটারদের টাকা দিচ্ছেন : নজরুল ইসলাম খান বিএনপি ও স্বতস্ত্র সংঘর্ষ, আহত ৯ ভালুকায় ৫ কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভোট ডাকাতির ‘নীলনকশা’র অভিযোগ: প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন সাকি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট কাল: সংস্কারের পক্ষে শায়খ আহমাদুল্লাহর ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান অনলাইনে প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রার্থীরা : ইসি সানাউল্লাহ

ভোট ডাকাতির ‘নীলনকশা’র অভিযোগ: প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন সাকি

বাংলা ভিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 7

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে পরিকল্পিতভাবে ভোটাধিকার হরণ ও নির্বাচন ব্যবস্থাকে অকার্যকর করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের সংসদ সদস্যপ্রার্থী জোনায়েদ সাকি।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আমেনা প্লাজার তৃতীয় তলায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

সাকি বলেন, যারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের কথা বলে রাজনীতি করে, তাদেরই একটি অংশ এখন জনগণের ভোটের বদলে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর ওপর নির্ভর করছে। তার দাবি, ক্ষমতার লড়াইয়ে পুরোনো দমনমূলক কৌশল ফেরানোর চেষ্টাও দেখা যাচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট সারাদেশে “সুপরিকল্পিত ভোট ডাকাতির নীলনকশা” বাস্তবায়নে সক্রিয়। অনুপস্থিত ভোটারের নামে ভোট দেওয়া, কালি মুছে একাধিকবার ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি, একই ব্যক্তিকে বারবার ভোটকেন্দ্রে ঢোকানো, এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বাঞ্ছারামপুরেও এর “সরাসরি লক্ষণ” দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে সাকি বলেন, উদ্দেশ্য একটাই—ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বিরত রাখা। তিনি বলেন, ভোট ডাকাতি ঠেকানোর নাম করে কেন্দ্রে কেন্দ্রে বাঁশের লাঠি নিয়ে উপস্থিত হওয়ার প্রকাশ্য আহ্বান রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; এটি সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলায় উসকানি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি নির্বাচন আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন এবং ভোটারদের ভয় দেখিয়ে দমনের চেষ্টা।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠছে। লিখিত অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, কয়েকজন কর্মকর্তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ রয়েছে এবং তাদের নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিতর্কিতভাবে অনেক কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

সাকি বলেন, প্রশাসন নিরপেক্ষ না থাকলে এবং কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করলে এর দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ আর কোনো পাতানো নির্বাচন মেনে নেবে না।”

সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি বলেন, ভোটব্যবস্থা বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্ন; জনগণের ভোটে আস্থা না রেখে যারা ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর পথে হাঁটছে, ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না।

শেয়ার করুন

ভোট ডাকাতির ‘নীলনকশা’র অভিযোগ: প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন সাকি

আপডেট: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে পরিকল্পিতভাবে ভোটাধিকার হরণ ও নির্বাচন ব্যবস্থাকে অকার্যকর করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের সংসদ সদস্যপ্রার্থী জোনায়েদ সাকি।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আমেনা প্লাজার তৃতীয় তলায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

সাকি বলেন, যারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের কথা বলে রাজনীতি করে, তাদেরই একটি অংশ এখন জনগণের ভোটের বদলে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর ওপর নির্ভর করছে। তার দাবি, ক্ষমতার লড়াইয়ে পুরোনো দমনমূলক কৌশল ফেরানোর চেষ্টাও দেখা যাচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট সারাদেশে “সুপরিকল্পিত ভোট ডাকাতির নীলনকশা” বাস্তবায়নে সক্রিয়। অনুপস্থিত ভোটারের নামে ভোট দেওয়া, কালি মুছে একাধিকবার ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি, একই ব্যক্তিকে বারবার ভোটকেন্দ্রে ঢোকানো, এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বাঞ্ছারামপুরেও এর “সরাসরি লক্ষণ” দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে সাকি বলেন, উদ্দেশ্য একটাই—ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বিরত রাখা। তিনি বলেন, ভোট ডাকাতি ঠেকানোর নাম করে কেন্দ্রে কেন্দ্রে বাঁশের লাঠি নিয়ে উপস্থিত হওয়ার প্রকাশ্য আহ্বান রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; এটি সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলায় উসকানি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি নির্বাচন আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন এবং ভোটারদের ভয় দেখিয়ে দমনের চেষ্টা।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠছে। লিখিত অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, কয়েকজন কর্মকর্তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ রয়েছে এবং তাদের নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিতর্কিতভাবে অনেক কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

সাকি বলেন, প্রশাসন নিরপেক্ষ না থাকলে এবং কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করলে এর দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ আর কোনো পাতানো নির্বাচন মেনে নেবে না।”

সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি বলেন, ভোটব্যবস্থা বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্ন; জনগণের ভোটে আস্থা না রেখে যারা ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর পথে হাঁটছে, ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না।