ঢাকা ০৬:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাঁস কোলে রুমিন ফারহানা, বক্তব্য ঘিরে আলোচনা

বাংলা ভিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 14

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা। নির্বাচনী ফল অনুযায়ী, ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৩৮ হাজারেরও বেশি।

জয়ের পর শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রুমিন ফারহানা। এসময় হাঁস কোলে নিয়েই তিনি জানান, কেন ‘হাঁস’ প্রতীক বেছে নিয়েছেন এবং শোনান নিজের বেড়ে ওঠার কিছু স্মৃতি।

রুমিন ফারহানা বলেন, ছোটবেলায় তার পোষা প্রাণীর প্রতি টান ছিল। পরিবারের অবস্থান বদলের কারণে একসময় সেই অভ্যাস কমে যায়। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফিরে আবার হাঁস-মুরগিসহ নানা প্রাণীর সঙ্গেই অবসর সময় কাটে তার। আর সেই স্মৃতির জায়গা থেকেই ‘হাঁস’ প্রতীককে নিজের পরিচয়ের অংশ হিসেবে বেছে নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

বিএনপি থেকে বের হয়ে নির্বাচনে নামা এবং জয় পাওয়া সহজ ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রুমিনের ভাষ্য, শুধু তার জন্য নয়, তাকে সমর্থন দেওয়া স্থানীয় নেতাকর্মীদের জন্যও সময়টা ছিল কঠিন। তিনি বলেন, জিততে না পারলে তাকে ঢাকায় ফিরে যেতে হতো, আর তার সঙ্গে থাকা অনেক কর্মী-সমর্থক বড় চাপের মুখে পড়তেন। “এত ভালোবাসার ঋণ কীভাবে শোধ করব” বলেও আবেগ প্রকাশ করেন তিনি।

নির্বাচনী দিন নিয়ে অভিযোগও করেন রুমিন ফারহানা। তার দাবি, দুপুরের পর কয়েকটি স্থানে ভোটে অনিয়মের চেষ্টা হয়েছে এবং ফল আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, জালিয়াপাড়া কেন্দ্রে পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি নিজেই গিয়েছিলেন, বাধা পেরিয়ে কেন্দ্রে ঢুকেছেন এবং ভোট গণনা পর্যবেক্ষণ করেছেন। কিছু জায়গায় “ভুল ভোট” পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি দলীয় প্রার্থী নন। তাই এলাকায় টিকে থাকতে হলে কাজ করাই তার একমাত্র পথ। “কাজ না করলে আমার সামনে আর কোনো অপশন থাকবে না”—এমন বক্তব্য দেন তিনি।

এছাড়া বিএনপি যদি তাকে ফেরাতে চায়, তবে তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের বিষয়েও দলকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর রুমিন ফারহানাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং দলটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সহসম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় রুমিন ফারহানার পক্ষে মাঠে নামার অভিযোগে সরাইল উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেও বিএনপি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছিল বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন

হাঁস কোলে রুমিন ফারহানা, বক্তব্য ঘিরে আলোচনা

আপডেট: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা। নির্বাচনী ফল অনুযায়ী, ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৩৮ হাজারেরও বেশি।

জয়ের পর শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রুমিন ফারহানা। এসময় হাঁস কোলে নিয়েই তিনি জানান, কেন ‘হাঁস’ প্রতীক বেছে নিয়েছেন এবং শোনান নিজের বেড়ে ওঠার কিছু স্মৃতি।

রুমিন ফারহানা বলেন, ছোটবেলায় তার পোষা প্রাণীর প্রতি টান ছিল। পরিবারের অবস্থান বদলের কারণে একসময় সেই অভ্যাস কমে যায়। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফিরে আবার হাঁস-মুরগিসহ নানা প্রাণীর সঙ্গেই অবসর সময় কাটে তার। আর সেই স্মৃতির জায়গা থেকেই ‘হাঁস’ প্রতীককে নিজের পরিচয়ের অংশ হিসেবে বেছে নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

বিএনপি থেকে বের হয়ে নির্বাচনে নামা এবং জয় পাওয়া সহজ ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রুমিনের ভাষ্য, শুধু তার জন্য নয়, তাকে সমর্থন দেওয়া স্থানীয় নেতাকর্মীদের জন্যও সময়টা ছিল কঠিন। তিনি বলেন, জিততে না পারলে তাকে ঢাকায় ফিরে যেতে হতো, আর তার সঙ্গে থাকা অনেক কর্মী-সমর্থক বড় চাপের মুখে পড়তেন। “এত ভালোবাসার ঋণ কীভাবে শোধ করব” বলেও আবেগ প্রকাশ করেন তিনি।

নির্বাচনী দিন নিয়ে অভিযোগও করেন রুমিন ফারহানা। তার দাবি, দুপুরের পর কয়েকটি স্থানে ভোটে অনিয়মের চেষ্টা হয়েছে এবং ফল আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, জালিয়াপাড়া কেন্দ্রে পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি নিজেই গিয়েছিলেন, বাধা পেরিয়ে কেন্দ্রে ঢুকেছেন এবং ভোট গণনা পর্যবেক্ষণ করেছেন। কিছু জায়গায় “ভুল ভোট” পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি দলীয় প্রার্থী নন। তাই এলাকায় টিকে থাকতে হলে কাজ করাই তার একমাত্র পথ। “কাজ না করলে আমার সামনে আর কোনো অপশন থাকবে না”—এমন বক্তব্য দেন তিনি।

এছাড়া বিএনপি যদি তাকে ফেরাতে চায়, তবে তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের বিষয়েও দলকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর রুমিন ফারহানাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং দলটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সহসম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় রুমিন ফারহানার পক্ষে মাঠে নামার অভিযোগে সরাইল উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেও বিএনপি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছিল বলে জানা গেছে।