নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ ইতিবাচক : ইইউর প্রধান পর্যবেক্ষক

- আপডেট: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 5
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের সামগ্রিক পরিবেশ ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ইভারস আইজাবস।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ইইউ মিশনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রশিক্ষিত ও সক্রিয় পর্যবেক্ষকরা অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি অংশীদার দেশ নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও কানাডার প্রতিনিধিরাও এই মিশনের সঙ্গে যুক্ত আছেন।
ইভারস আইজাবস জানান, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের মৌলিক নীতি—নিরপেক্ষতা, নির্ভুলতা এবং পারস্পরিক সম্মান—মেনে কাজ করবেন। তিনি বলেন, ঢাকায় থাকা টিম সার্বক্ষণিকভাবে মাঠের পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে এবং বিশেষজ্ঞ দল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোতায়েন পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় করবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান পর্যবেক্ষক বলেন, দীর্ঘ সময় পর গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের যে প্রক্রিয়া সামনে এসেছে, সেটি তারা গভীর আগ্রহ নিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন। তার ভাষায়, এ ধরনের আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ইইউ–বাংলাদেশ সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, ইউরোপে গণতন্ত্র, রাজনৈতিক ক্ষমতার জবাবদিহি ও আইনের শাসনের যে নীতিগুলো গুরুত্ব পায়, সেগুলোই ইইউর অভিন্ন মূল্যবোধ। এই মূল্যবোধই বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে শক্তিশালী করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি একটি ভালো, অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশার কথা জানান।
ভোটের সামগ্রিক পরিবেশ প্রসঙ্গে ইভারস আইজাবস বলেন, তারা বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও দেশের নানা অঞ্চলের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। সাধারণভাবে আলোচনাগুলোতে একটি আশাবাদী মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে। অনেকের মতে, এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে—যার ভিত্তি হবে গণতন্ত্র।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইইউ পর্যবেক্ষক দল কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে বা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্দেশনা দিতে আসেনি। তাদের কাজ কেবল নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করা।
নির্বাচন শেষে একটি অন্তর্বর্তী মূল্যায়নের পাশাপাশি পরবর্তীতে বিস্তারিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে জানিয়ে ইইউ প্রধান পর্যবেক্ষক বলেন, প্রতিবেদনে বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশও থাকবে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে। ভুয়া তথ্য, বিভ্রান্তিমূলক প্রচারসহ এসব চ্যালেঞ্জকে বিশ্বের গণতন্ত্রগুলোর জন্য বড় উদ্বেগ উল্লেখ করে তিনি জানান, চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব ইস্যু গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে।




























