ঢাকা    শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

আন্তর্জাতিক মানের 'হালাল' ইকোসিস্টেম গড়তে চায় বাংলাদেশ: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রচলিত রপ্তানি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন ও সম্ভাবনাময় খাতের দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৈশ্বিক হালাল বাজারের সুযোগ কাজে লাগাতে আসিয়ান দেশগুলোর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের একটি সমন্বিত হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘আসিয়ান অঞ্চলে হালাল ইকোসিস্টেম: বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, হালাল অর্থনীতি এখন শুধু খাদ্য ও পানীয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ওষুধ, প্রসাধনী, মোডেস্ট ফ্যাশন, পর্যটন, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, আর্থিক সেবা ও সার্টিফিকেশনসহ বিভিন্ন খাত নিয়ে এটি একটি বিস্তৃত বৈশ্বিক বাজারে পরিণত হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:3630]বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়াতে উৎপাদন সক্ষমতা শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, এজন্য দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ, স্থিতিশীল ও আকর্ষণীয় ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সুবিধা ধরে রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।হালাল পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে একটি স্বাধীন ও বিশ্বস্ত সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হালাল সনদ বাংলাদেশের পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বাজারে প্রবেশ সহজ করতে পারে।সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি দীর্ঘদিন ধরে তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। ভবিষ্যতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অবস্থান শক্তিশালী করতে পণ্য ও রপ্তানি বাজার উভয় ক্ষেত্রেই বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন। হালাল অর্থনীতি সেই বহুমুখীকরণের একটি বড় ক্ষেত্র হতে পারে।আলোচনায় মালয়েশিয়ার হালাল অর্থনীতির অভিজ্ঞতাকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়। দেশটি উৎপাদন, গবেষণা, মান নিয়ন্ত্রণ, সার্টিফিকেশন, বিপণন ও রপ্তানিকে সমন্বিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ হালাল ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ওষুধ, চামড়া ও পোশাক খাতে শক্তিশালী উৎপাদনভিত্তি রয়েছে। আন্তর্জাতিক মান ও সঠিক সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করা গেলে এসব খাতকে বৈশ্বিক হালাল সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা সম্ভব।[BANGVIEWS-POST:3629]সেমিনারে বাংলাদেশের হালাল খাতের উন্নয়নে পাঁচটি অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জাতীয় হালাল নিশ্চয়তা কাঠামো তৈরি, আধুনিক পরীক্ষাগার ও লজিস্টিক সুবিধাসহ বিশেষায়িত শিল্প ক্লাস্টার গড়ে তোলা, বিদ্যমান শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, এসএমই ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করা এবং অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ হালাল ব্র্যান্ড’ প্রতিষ্ঠা করা।বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রেদওয়ানুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর। এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বিএসটিআইয়ের হালাল সার্টিফিকেশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন। বক্তারা মনে করেন, মান, নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা গেলে হালাল অর্থনীতি বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

আন্তর্জাতিক মানের 'হালাল' ইকোসিস্টেম গড়তে চায় বাংলাদেশ: বাণিজ্যমন্ত্রী