ঢাকা    রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বন্যার ক্ষতি কাটাতে দ্রুত সড়ক সংস্কারের নির্দেশ: প্রতিমন্ত্রী

সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক ও মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।তিনি বলেছেন, দুর্যোগের কারণে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। মানুষের দুর্ভোগ কমানো এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেরামত করা হচ্ছে।সম্প্রতি সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান।[BANGVIEWS-POST:2024]হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও সড়কের পিচ উঠে গেছে, কোথাও রাস্তার অংশ ধসে পড়েছে, আবার কোথাও কালভার্ট ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ক্ষতি হয়েছে।তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা তৈরি, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং জরুরি সংস্কারকাজ শুরু করতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।প্রাথমিক হিসাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রায় ২১২ কিলোমিটার সড়ক বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয়, আঞ্চলিক মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা সড়ক রয়েছে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, শিল্পাঞ্চল ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের জন্য চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি ও ত্রাণ পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত সড়কগুলো দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতাল, বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার সঙ্গে সংযোগকারী সড়কগুলোও অগ্রাধিকার পাচ্ছে।হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, কোনো স্থানে স্থায়ী সংস্কারে সময় লাগলে আপাতত অস্থায়ী মেরামতের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে। বর্ষা মৌসুম শেষে সেখানে টেকসই পুনর্নির্মাণকাজ করা হবে।তিনি আরও জানান, মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা থাকা এলাকাগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। ভবিষ্যতে সড়ক নির্মাণে উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, টেকসই নির্মাণসামগ্রী এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।[BANGVIEWS-POST:2023]তিনি জানান, জরুরি সংস্কারকাজের জন্য প্রাথমিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়ার পর প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হবে।সড়ক ও সেতুর নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সেতু ও কালভার্টগুলোও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভারী যান চলাচলে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হতে পারে। প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ সড়ক ও মহাসড়কের সংস্কারকাজ শেষ হবে এবং দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।

বন্যার ক্ষতি কাটাতে দ্রুত সড়ক সংস্কারের নির্দেশ: প্রতিমন্ত্রী