ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

হাসিনাকে ফেরত পাঠানো নিয়ে ভারতকে সতর্ক আইনি পথ অনুসরণের আহ্বান

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ ভারতের জন্য শুধু ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের পরীক্ষা নয়, বরং আইন ও কূটনীতিকে পৃথক রেখে নয়াদিল্লি কতটা সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তারও পরীক্ষা বলে মন্তব্য করেছে ভারতের ইংরেজি দৈনিক দ্য স্টেটসম্যান।‘দ্য হাসিনা কেস’ শিরোনামের এক সম্পাদকীয়তে পত্রিকাটি বলেছে, গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ থাকা যৌক্তিক। তবে ভারতের পক্ষেও প্রত্যর্পণের অনুরোধকে সাধারণ কূটনৈতিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।সম্পাদকীয়তে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার এবং তাকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। বলা হয়, এ কারণেই বিষয়টি একজন পলাতক ব্যক্তিকে হস্তান্তরের সাধারণ অনুরোধের চেয়ে অনেক বেশি জটিল।[BANGVIEWS-POST:4277]২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তির কথা উল্লেখ করে দ্য স্টেটসম্যান বলেছে, চুক্তিটি দুই দেশের ওপর কিছু বাধ্যবাধকতা আরোপ করলেও প্রত্যর্পণের অনুরোধ পাওয়া রাষ্ট্রের আইনি বিবেচনার সুযোগ পুরোপুরি বাতিল করে না। ফলে শেখ হাসিনার বিচারপ্রক্রিয়া ও দণ্ডাদেশ এমন আইনি মানদণ্ড পূরণ করেছে কি না, যার ভিত্তিতে ভারত তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে পারে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।পত্রিকাটির মতে, হত্যা বা গণহত্যার মতো অভিযোগকে শুধু রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রত্যর্পণের আওতার বাইরে রাখা যায় না। আবার অনুরোধকারী রাষ্ট্র কোনো অভিযোগকে যেভাবে ব্যাখ্যা করছে, সেটিকেও চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। ভারতের উচিত অভিযোগের প্রকৃতি এবং বিচারপ্রক্রিয়া উভয়ই পর্যালোচনা করা।বিশেষ করে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার ও মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় বিষয়টি আরও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়েছে। তাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করা হলে অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করার কার্যকর সুযোগ, আইনজীবীর সহায়তা এবং ন্যায়বিচারের মৌলিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে নিশ্চয়তা চাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।[BANGVIEWS-POST:4273]মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টিকেও গুরুত্বপূর্ণ আইনি জটিলতা হিসেবে দেখেছে পত্রিকাটি। ভারতেও মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও প্রত্যর্পণের পর কোনো ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সম্ভাবনা থাকলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা চাওয়ার নজির রয়েছে বলে সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়।একই সঙ্গে বিষয়টির কূটনৈতিক দিকও তুলে ধরেছে দ্য স্টেটসম্যান। পত্রিকাটির মতে, ভারত যদি বাংলাদেশের সাবেক একজন নেতাকে অনির্দিষ্টকাল সুরক্ষা দিচ্ছে, এমন ধারণা তৈরি হয়, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।এ কারণে সম্পাদকীয়টির অভিমত, শেখ হাসিনাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যর্পণ কিংবা অনির্দিষ্টকাল ভারতে আশ্রয় দেওয়ার কোনোটিই উপযুক্ত পথ নয়। বরং প্রত্যর্পণের অনুরোধটি স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচাই করা উচিত।একই সঙ্গে ন্যায়বিচার, পুনর্বিচারের সুযোগ এবং মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে স্পষ্ট নিশ্চয়তা চাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পত্রিকাটি। এসব নিশ্চয়তা পাওয়া না গেলে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে ভারতের আইনি ও নৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে বলেও মত দেওয়া হয়েছে।দ্য স্টেটসম্যান বলেছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে যেকোনো সিদ্ধান্তের কূটনৈতিক প্রভাব থাকবে। তারপরও সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক টানাপোড়েন নয়, আইন ও নীতিকেই রাখা উচিত।

হাসিনাকে ফেরত পাঠানো নিয়ে ভারতকে সতর্ক আইনি পথ অনুসরণের আহ্বান