নেপালে গাছে চড়ে বেঁচে যাওয়া শিশুটি পেল মায়ের দেখা, হাতে ছিল ২০ রুপি
পেছন থেকে ধেয়ে আসছিল ভয়াবহ বন্যার স্রোত। সামনে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াচ্ছিল ৮ বছরের শিশু জোয়াল ঘালে। চারপাশে আর কোনো পথ না দেখে শেষ মুহূর্তে জঙ্গলের একটি গাছে উঠে যায় সে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়।নেপালের রাসুয়া অঞ্চলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় একদিন পর শিশুটিকে উদ্ধার করে হেলিকপ্টারে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার একটি পা ভেঙে যায় এবং মুখেও আঘাত লাগে। তবে জীবিত সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন তার মা মাতি মায়া তামাং।রয়টার্সের এক সাংবাদিকের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ছেলের খোঁজ পান তিনি। পরে কাঠমান্ডুর হাসপাতালে গিয়ে সন্তানের সঙ্গে দেখা করেন মা।[BANGVIEWS-POST:4667]মাতি মায়া তামাং বলেন, তিনি চারটি জায়গায় খোঁজ করেও দুই ছেলের কোনো সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো তারা আর বেঁচে নেই।তিনি বলেন, “চোখের পানি ফেলা ছাড়া আমার আর কিছু করার ছিল না। আমি নিজেকে কোনোভাবেই সামলাতে পারছিলাম না।”বন্যার পর নিখোঁজদের খোঁজ করতে গিয়ে রয়টার্সের সাংবাদিক সাহানা বজ্রাচর্য নুয়াকোট জেলার একটি হাসপাতালে জোয়ালের সন্ধান পান। অজ্ঞাতপরিচয় শিশুটির ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পর তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়।হাসপাতালে নেওয়ার সময় জোয়ালের ডান পা ভাঙা ছিল। মুখে ছিল আঘাতের চিহ্ন। তবে উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যদের দেওয়া ১০ রুপির দুটি নোট সে শক্ত করে ধরে রেখেছিল।জোয়াল জানায়, বন্যা আঘাত হানার সময় সে স্কুলে ছিল। হঠাৎ চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। সে এক বন্ধুর সঙ্গে স্কুল থেকে দৌড়ে জঙ্গলের দিকে যায় এবং বাঁচার জন্য গাছে উঠে পড়ে।[BANGVIEWS-POST:4666]নেপালের এই ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গত রাসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং জেলায় বহু শিশুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।সংস্থাটি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের শনাক্ত করা, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন শিশুদের তালিকাভুক্ত করা এবং তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে নেপাল সরকারের সঙ্গে কাজ করছে তারা।এদিকে জোয়ালের মা জানান, বড় ছেলেকে ফিরে পাওয়ার পর তার মনে হয়েছে তিনি যেন আবার জীবন ফিরে পেয়েছেন। তার স্বামীও জাপান থেকে দেশে ফেরার পথে রয়েছেন।সূত্র: রয়টার্স